Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শান-সি সুলতানপুরী গ্যাংয়ের কয়েক প্রজন্মের পেশা চুরি, সোনা বিক্রির টাকাতেই চলে সংসার

একাধিক রাজ্যে চুরির ঘটনার নেপথ্যের রহস্যের জাল ক্রমশ খুলে দিচ্ছে ‘শান-সি সুলতানপুরী’ গ্যাং।

শান-সি সুলতানপুরী গ্যাংয়ের কয়েক প্রজন্মের পেশা চুরি, সোনা বিক্রির টাকাতেই চলে সংসার
  • ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: একাধিক রাজ্যে চুরির ঘটনার নেপথ্যের রহস্যের জাল ক্রমশ খুলে দিচ্ছে ‘শান-সি সুলতানপুরী’ গ্যাং। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে এমন সব তথ্য, যা পুলিশকেও চমকে দিয়েছে। জিআরপি সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতারের পরও নির্লজ্জ ঠান্ডা মাথায় এক দুষ্কৃতী বলে, ‘ছিনতাই করি না স্যর, কাউকে আঘাত না দিয়ে শুধু জিনিসটা সরিয়ে নিই। এভাবেই তো সংসার চলে!’ তাদের কথায় স্পষ্ট, চৌর্যবৃত্তি এদের কাছে শুধু অপরাধ নয়, সুলতানপুরের বহু পরিবারের বংশানুক্রমিক পেশাও বটে!

Advertisement

ট্রেনের দোলায় দুলতে থাকা ব্যাগের চেন হোক কিংবা ধর্মীয় জমায়েতের ভিড়ে সুযোগ পেলেই হাত সাফাইয়ের কৌশলে মুহূর্তে উধাও হয় গয়না-টাকা। কখনও অন্ধ্রপ্রদেশ, কখনও মহারাষ্ট্র, আবার কখনও কলকাতা-হাওড়া। রাজ্যে রাজ্যে ঘুরে বেড়ায় এই গ্যাং। সেকেন্দ্রাবাদে চুরির পর হাওড়ায় ফেরার পথে ১২ নভেম্বর সাঁতরাগাছি স্টেশনে ধরা পড়ে গ্যাংয়ের মূলচক্রী রণবীর সিং ওরফে ‘মাস্টার’ সহ তিনজন। 
তদন্তকারীদের কথায়, হাওড়া স্টেশন চত্বর, বড়বাজার এলাকা, শিয়ালদহমুখী ট্রেন— এদের নজর পড়েনি, এমন জায়গা নেই। বয়স্ক, মহিলা ও অসতর্ক যাত্রীদের সোনার গয়না ছিল এদের মূল টার্গেট। অদ্ভুত দক্ষতায় হাত সাফাই চালালেও নিজেদের আড়াল করতে এরা ব্যবহার করত সাধারণ পোশাক ও স্বাভাবিক আচরণ। ব্যাগের চেন খুলতে গিয়ে ধরা পড়ার উপক্রম হলে উল্টো দিকের ব্যাগের মালিক সেজে ‘ভুলভাল’ পরিস্থিতি তৈরি করাই ছিল এদের বিশেষ কৌশল। অনেকে সন্দেহ করলেও শেষমেশ ছেড়ে দিয়েছে। ধৃতদের দাবি, ‘শারীরিক ক্ষতি করি না, শুধু হাতে একটু স্কিল আছে।’ সেই ‘স্কিল’ রপ্ত করতে নাকি বছরের পর বছর প্রশিক্ষণ লেগেছে।
তবে সাধারণ মুখোশের আড়ালে জমে উঠেছিল বিলাসবহুল জীবন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চুরির সোনা বিক্রির টাকা দিয়ে মাস্টার বানিয়েছে সুসজ্জিত বহুতল। সন্তানদের ভর্তি করেছে নামীদামি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। করেছে মোটা অংকের এফডি। আজমের সিং ও মুকেশ— দুই সদস্যের অবস্থাও কম নয়। 
শুধু সংসার চালানোই নয়, কলকাতায় এলে চুরির টাকায় দেদার আমোদপ্রমোদ চলত নিষিদ্ধপল্লিতে। সম্প্রতি সোনাগাছির এক যৌনকর্মীর সঙ্গে ফোনালাপে মাস্টারের অবস্থান মেলায় জিআরপির জালে পড়ে পুরো চক্রটি। পুলিশের আশা, ধৃতদের সূত্র ধরে খুব শীঘ্রই আরও কয়েকজন পলাতক মাস্টারমাইন্ডকে ধরা সম্ভব হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ