নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ইডি-সিবিআইয়ের প্রসঙ্গ উঠতেই যেন ধৈর্যের বাঁধে টান পড়ল! অশোকনগরে তেল প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়ে রবিবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ‘ইডি-সিবিআইয়ের প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে আমি ক্লান্ত, বিরক্ত।’ বেআইনি নির্মাণ মামলায় ‘সোনা পাপ্পু’র সঙ্গে কলকাতা পুরসভার ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বিজন মুখোপাধ্যায়ের নাম জড়ায়। কেন্দ্রীয় এজেন্সি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছিল। কিন্তু চার্জশিটে নাম নেই কেন? এই প্রশ্নেই বিজেপির রাজ্য সভাপতির জবাব, ইডি-সিবিআইয়ের ব্যাপারে আমি নেই।
রবিবার দুপুরে অশোকনগরে ওএনজিসি প্রকল্প পরিদর্শনে আসেন রাজ্যসভার সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি এদিন গ্যাস ও তেল পৃথক করার জন্য ব্যবহৃত কিউপিএস সেপারেটরের উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি, তেলক্ষেত্র ঘুরে দেখার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েই ইডি-সিবিআই নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি। সেখানেই বেরিয়ে আসে তাঁর বিরক্তির কথা। তবে অশোকনগরের তৈলক্ষেত্র নিয়েও এদিন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন শমীক। প্রকল্পের আধিকারিকদের সামনে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, কাজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ চলবে না। বিজেপির কোনো নেতা, সাংসদ বা বিধায়ক প্রকল্পের পরিচালনাগত বিষয়ে নাক গলাবেন না। শমীক বলেন, আপনাদের কাজ বা পরিচালনাগত বিষয়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হবে না। রাজ্যের খনিজ বা প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে রাজনীতি উচিত নয়। উল্লেখ্য, অশোকনগরের তেল প্রকল্প নিয়ে অবশ্য শমীকের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ায় প্রত্যেক অধিবেশনেই অশোকনগরের প্রসঙ্গ তুলেছেন বলেও দাবি শমীকের। তাঁর কথায়, কখনো জিরো আওয়ারে, কখনো স্পেশাল মেনশনে, কখনো বিভিন্ন বিতর্কে বিষয়টি বলেছি। এর জন্য পেট্রলিয়াম মন্ত্রী তাঁকে বলতেন, ‘ইটস ইয়োর বেবি!’
এদিন প্রকল্পের পেট্রলিয়াম মাইনিং লিজ নিয়ে আগের রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগও তোলেন শমীক। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে কেন্দ্রের তরফে ১৯টি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সহযোগিতা মেলেনি। এখন অবশ্য অশোকনগরের বাইগাছি তৈলক্ষেত্রে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। গত ২৮ আগস্ট প্রথমবার ক্রুড অয়েল উত্তোলন হয়। সেদিনই ১২০০ লিটার অপরিশোধিত তেল ট্যাঙ্কারে করে হলদিয়ার পথে পাঠানো হয়। আর এই তেল উন্নতমানের। মোট পাঁচটি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। একটি কূপের কাজ শেষ হয়েছে। অন্য একটি কূপে প্রায় সালফারবিহীন উচ্চমানের তেল মিলছে বলে দাবি শমীকের।
প্রকল্পে কেন্দ্রের বিনিয়োগ প্রায় ১১০০ কোটি টাকা। উৎপাদন বাড়লে অশোকনগরের পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনায় কর্মসংস্থান এবং আর্থসামাজিক ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়বে বলে জানান সাংসদ। এছাড়া রানাঘাটে প্রাকৃতিক গ্যাস এবং বঙ্গোপসাগরের বেঙ্গল অফশোর এলাকায় তেল অনুসন্ধানের কথাও বলেন শমীক। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এতদিন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে যে আপস হয়েছে, এই প্রকল্প চালু হলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।