সৌরাংশু দেবনাথ, কলকাতা: মুখে নয়, মাঠে! চ্যাম্পিয়নরা চিরকালই জবাব পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দিতেই ভালোবাসেন। কথার ফুলঝুরি নয়, ব্যাটে বা বলে জ্বলে ওঠাই তাঁদের বৈশিষ্ট্য। মঙ্গলবার নন্দনকাননে বিধ্বংসী মহম্মদ সামির ৫ উইকেটে সেটাই প্রতিফলিত। ইডেনের বাইশ গজে তিনি যেন লিখলেন হাল না ছাড়া মানসিকতার জয়গান। গুজরাতের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৫ বছর বয়সির ৫ উইকেটই আনল ১৪১ রানে জয়। এই প্রথম রনজিতে গুজরাতকে হারাল বাংলা। দুই ম্যাচে ১২ পয়েন্ট, আপাতত অশ্বমেধের ঘোড়ার মতোই ছুটছে দল। নেপথ্যে মোট ১৫ উইকেট নেওয়া সামির অবদান অনস্বীকার্য। কারা যেন তাঁর ফিটনেস নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন!
নির্বাচকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান অজিত আগরকর না থাকলেও ইডেনে হাজির ছিলেন অন্যতম নির্বাচক রুদ্রপ্রতাপ সিং। এদিনের ১০-১-৩৮-৫ বোলিং গড় তো ছাপার অক্ষরে চিরকালের জন্য থাকলই। স্যুইং-রিভার্স স্যুইংয়ের মিশেলে এখনও কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন, তা দেখলেন জাতীয় নির্বাচক। এরপরও কি টিম ইন্ডিয়ায় ব্রাত্য হয়ে থাকতে হবে? কয়েক সপ্তাহ পর ইডেনেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে লাল বল হাতে দেখা যাবে না তাঁকে? স্বয়ং সামি পুরোটাই ছাড়ছেন ভাগ্যের হাতে। মিডিয়া সেন্টারে বসে বললেন, ‘ম্যাচ জেতানোই আমার কাজ। দেশের হয়ে খেলার সময়ও সেটাই করতাম। আমি ভাগ্যে বিশ্বাসী। দেশের হয়ে খেলতে কে চায় না? কিন্তু আমি এমনিতেই বিতর্কের মধ্যে থাকি। ভিলেন বানিয়ে দেওয়া হয়। এটা বলতে পারি যে পুরোপুরি তৈরি। এখনও আমার মধ্যে অনেক ক্রিকেট বাকি রয়েছে। দলকে জিতিয়ে তৃপ্ত। বাংলার হয়ে খেলেই তো সবকিছু।’ পাশে বসা বাংলা কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লার উক্তি, ‘আর কবে সুযোগ পাবে ও? অবশ্যই জাতীয় দলে আসা উচিত সামির।’
ম্যাচের সেরা অবশ্য সামি নন, শাহবাজ আমেদ। প্রায় বছরখানেক পর বাংলার হয়ে খেলতে নেমেই নিলেন ৯ উইকেট। প্রথম ইনিংসে ছয়ের পর এদিন শিকারসংখ্যা তিন। এদিন সকালে চালিয়ে খেলে (২১৪-৮) অবস্থায় ডিক্লেয়ার করে বাংলা। গুজরাতের টার্গেট দাঁড়ায় ৩২৭। ইনিংসের পয়লা বলেই আঘাত হানেন সামি। ৫০-৩ হওয়ার পর অবশ্য উর্ভিল ও জয়মিত, দুই প্যাটেলের জুটি যোগ করে ১০৩। বঙ্গ ড্রেসিংরুমে তখন টেনশনের চোরাস্রোত। কিন্তু হাতে চোট পেয়ে উর্ভিলের বেরনোই হয়ে ওঠে টার্নিং পয়েন্ট। গুজরাত থামে ১৮৭ রানে। তার মধ্যে অপরাজিত ১০৯ উর্ভিলেরই!
এলিটের গ্রুপ সি’তে এখন শীর্ষে সার্ভিসেস (১৩)। হরিয়ানা ও বাংলা দু’দলেরই পকেটে ১২ পয়েন্ট। নকআউটের রাস্তা মসৃণ করতে ত্রিপুরা ও রেলওয়েজ, দুটো অ্যাওয়ে ম্যাচেই সরাসরি জয় জরুরি। বাংলা সেই আগ্রাসী মেজাজেই বুধবার ধরছে আগরতলার উড়ান। গনগনে সামি দলে রয়েছেন না!