লজ্জা! ৫ গোল হজম ইস্ট বেঙ্গলের , দীপাবলির আগেই নিভল মশাল, প্রথম জয় চেন্নাইয়ানের
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

চেন্নাইয়ান-  ৫                   :           ইস্ট বেঙ্গল- ৩

Advertisement

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লজ্জা! শনিবার মেরিনা বিচের পাড়ে চেন্নাইয়ানের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ ইস্ট বেঙ্গলের। এক নয়, দুই নয়, পাঁচ গোল হজম করল হাবাস-ব্রিগেড। খেলা না দেখলে অতি বড়ো সমর্থকও এই ফল বিশ্বাস করবেন না। কিন্তু বাস্তব হল, জিভুলিচরা বেশি ব্যবধানে হারলেও অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। মলিন পারফরম্যান্সে দীপাবলির আগেই অন্ধকারে ইস্ট বেঙ্গল। আই লিগে ২০১৫ সালে লাজংয়ের কাছে ১-৫ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। আইএসএলে ওড়িশার কাছে ৬-৫ ব্যবধানে হার মানে মশাল বাহিনী। এদিনের ম্যাচ লাল-হলুদের ইতিহাসে অভিশপ্ত হয়েই রইল। জিভুলিচ পেনশন কোটায় এসেছেন। লালচুংনুঙ্গা, সন্দীপ মান্ডিরা খেপের মাঠেও অচল। জঘন্য ডিফেন্স ডোবাল ইস্ট বেঙ্গলকে। হাবাস পেশাদার কোচ। এএফসি গুরুত্ব পায়, শিল্ড নয়। এবার আমও গেল, সঙ্গে ছালা। চোটের কারণে ডার্বিতে অনিশ্চিত আনোয়ার। সন্দীপ, লালচুংনুঙ্গাদের নিয়ে বড়ো ম্যাচ খেলা আত্মহত্যার শামিল। এবার ড্যাং ড্যাং করে ছুটি কাটাতে যাবেন কোচ-ফুটবলাররা। পাড়ায় কটূক্তি শুনতে হবে সমর্থকদের।
প্রথম ২০ মিনিটেই ইস্ট বেঙ্গলকে গিলে নিলেন ব্রাইসন ফার্নান্ডেজ। ছেলেখেলা বললেও কম বলা হয়। ৪ মিনিটে ডানদিক থেকে কাট করে ঢুকে ইরফান মাইনাস করেন। জয়, সন্দীপরা তখন অসহায়। আরামসে জাল কাঁপাতে অসুবিধা হয়নি ব্রাইসনের (১-০)। প্রথম পোস্টে স্পেস দিলেন গিলও! চেন্নাইয়ানের বাঁধভাঙা আক্রমণে তখন কাঁপছে ইস্ট বেঙ্গল। ১৮ মিনিটে ২-০। এবার বাঁ দিক থেকে কাট করে এলেন ব্রাইসন। কোমরের ঝটকায় নুঙ্গা কাটা কলাগাছ। ব্রাইসনের ইনস্যুইং সোয়ার্ভ জালে আছড়ে পড়ে। পরের মিনিটেই ইরফানের শট কোনওরকমে বাঁচান গিল। খেলার গতির বিরুদ্ধে ব্যবধান কমায় হাবাস ব্রিগেড। ২৯ মিনিটে রামিরেজের ছোট্ট থ্রু পাস ধরে জোরালো শটে লোবার গোল (২-১)। এরপর হ্যামস্ট্রিংয়ে চোটের কারণে উঠে যান তালাল। কামব্যাকের সুবর্ণ সুযোগে জল ঢাললেন জিকসন। অহেতুক হোল্ড করতে গিয়ে বলের দখল হারান। তারপর বক্সে ব্রাইসনকে ট্রিপ করতেই পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। স্পিটকিক কাজে লাগাতে ভুল করেননি রামন ট্যাঙ্ক (৩-১)।  
মরিয়া হাবাস দ্বিতীয়ার্ধে এডমুন্ড ও দানুকে নামালেন। বিরতির পর পেনাল্টি থেকে ব্যবধানও কমান রামিরেজ (৩-২)। কিন্তু প্রতি-আক্রমণে ৪-২ করলেন ইরফান। পঞ্চম গোলটিও তাঁর (৫-২)। চেন্নাইয়ের দৌড়েই হাবাসের দুর্গ ফালাফালা। বরিস কি এদের থেকেও খারাপ? শেষদিকে সান্ত্বনা পুরস্কারের মতো ৫-৩ করলেন ডেভিড। হারের পর লিগ টেবিলে ৬ নম্বরে ইস্ট বেঙ্গল (৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট)। ম্যাচ শেষে লাল-হলুদের কোচ হাবাসের মন্তব্য, ‘সব দোষ আমার। আনোয়ারের না থাকা নিয়ে অজুহাত দিতে চাই না। এই দল আমার কাছে অচেনা। ব্যর্থতা ভুলে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে হবে।’ আর প্রথম জয়ের পর অষ্টম স্থানে উঠে এল চেন্নাইয়ান (৫ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট)।
ইস্ট বেঙ্গল: গিল, লালচুংনুঙ্গা (হার্দিক), সন্দীপ, জিভুলিচ, জয়, জিকসন, রশিদ, রামিরেজ, বিপিন (দানু), বিষ্ণু (এডমুন্ড) ও লোবা (ডেভিড)।