নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: শ্বশুরবাড়িতে চলছিল মনোমালিন্য। তাই বাপের বাড়ি চলে এসেছিলেন শকুন্তলা। মায়ের কাছে নালিশ করেছিলেন। কিন্তু, মা বলেছিলেন, ‘একটু আধটু সহ্য করতে হয়’! ব্যস, তাতেই রেগে গিয়ে মায়ের উপর হামলা। খুনই হয়ে যান মা! ঘটনার পর কেটে গিয়েছে এক যুগেরও বেশি সময়। ১৪ বছর সাজার মেয়াদ শেষ করেছেন শকুন্তলা। কিন্তু, সাজা খেটেও তিনি সংশোধনাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না! কেন? কারণ, পরিবারের খোঁজ নেই! মাকে খুন করেছেন নিজের হাতেই। বাবা মারা গিয়েছেন আগেই। চাকরিজীবী স্বামী এবং ছেলে ও মেয়ে আছেন। কিন্তু, তাঁরা কোথায়, তাঁদের ঠিকানা জানা নেই শকুন্তলার। তাই দমদমের কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারেই এখন দিন কাটছে তাঁর। তাঁকে পরিবারের হাতে ফেরানোর জন্য উদ্যোগ নিয়ে হ্যাম রোডিয়োর ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিয়ো ক্লাব। শকুন্তলাও জেল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, দেরি হলেও তিনি স্বামীর কাছেই ফিরবেন!
ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিয়ো ক্লাব সূত্রে জানা গিয়েছে, শকুন্তলা লামচানির বিয়ে হয়েছিল উত্তরবঙ্গে। স্বামী কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। ঘটনার সময় তাঁর খড়্গপুরে পোস্টিং ছিল। খড়্গপুরেই থাকতেন শকুন্তলার মা। ২০১০ সালে শ্বশুরবাড়ি থেকে চলে এসেছিলেন তিনি বাপের বাড়ি। সেখানেই মাকে খুন করেন তিনি। ওই বছর ৬ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। মাকে খুনের অপরাধে তার ১৪ বছরের সাজা হয় শকুন্তলার। এতদিন তিনি মেদিনীপুর সংশোধনাগারে ছিলেন। গত জুন মাসে তাঁর সাজার মেয়াদ শেষ হয়েছে। বর্তমানে শকুন্তলাকে দমদম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিয়ো ক্লাবের সম্পাদক অম্বরীশ নাগ বিশ্বাস বলেন, ‘এতগুলো বছরে শকুন্তলার সঙ্গে কেউ দেখাও করতে আসেননি। খড়্গপুরে যে ঠিকানায় তাঁর স্বামী থাকতেন, সেখানে তালা। বাড়ির খোঁজ নেই। তাই সাজা শেষ করেও তিনি ফিরতে পারছেন না। আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, তাঁর স্বামী বেঙ্গালুরুতে কর্মরত। তখনকার নাবালক ছেলে-মেয়ে এখন বড়ো হয়ে গিয়েছেন। ছেলে দুবাইয়ের একটি হোটেলে চাকরি করেন। শকুন্তলার মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। তাঁর স্বামী সেনা জওয়ান। আমরা পুরো বিষয়টি শকুন্তলার স্বামীকে জানিয়েছি। তিনি এলেই ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।’