সংবাদদাতা তারকেশ্বর: ধনেখালিতে মাছ ব্যবসায়ী হিসেবে শক্তি পাত্র পরিচিত নাম। আবার শিল্পী হিসেবেও বেশ জনপ্রিয়। মাছের আঁশ দিয়ে তৈরি তাঁর শিল্পকর্ম পৌঁছেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে। এর পাশাপাশি গান্ধীজি, প্রধানমন্ত্রী সহ ভারতের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তির ছবি তৈরি করেছেন আঁশ দিয়ে। রাজ্যের বিভিন্ন মেলায় নিজের তৈরি সামগ্রী বিক্রি করেন। পাশাপাশি সরকারি তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন জেলায় গিয়ে এই শিল্পের প্রশিক্ষণ দেন।
ধনেখালি থানার অন্তর্গত সমোসপুর এক নম্বর পঞ্চায়েতের গড়বাড়ি জেলেপাড়ার বাসিন্দা শক্তি পাত্র। ধনেখালি কলেজ থেকে কলা বিভাগে স্নাতক। ২০১২ সালে বেসরকারি ব্যাঙ্কে চাকরিতে যোগ দেন। তবে শারীরিক অসুস্থতায় ছাড়তে হয় চাকরি। এরপর মাছের পৈতৃক ব্যবসার ভার নেন। ছোট থেকেই ছবি আঁকা, থার্মোকল ও মাটি দিয়ে শিল্পকর্ম প্রস্তুত নেশা তাঁর। স্ত্রী সুমিতা পাত্র ধনেখালি বিডিও অফিসে শিল্পকর্ম শেখার সুযোগ পান। তারপর স্বামীরও এই কাজ শেখার ইচ্ছে বলে অফিসে আবেদন জানান। শক্তিবাবুকে অনুমতি দেন তৎকালীন বিডিও। শক্তি জানান, মাছের আঁশ পরিষ্কার করে হাইড্রোক্লোরাইড বা মিউরেয়েটিক অ্যাসিড দিয়ে ধুতে হয়। ঝকঝকে সাদা গন্ধহীন মাছের আঁশ রোদে শুকনো করা হয়। এরপর মিহি শিরিষ কাগজ দিয়ে ঘষে উজ্জ্বলতা বাড়ানোর নিয়ম। মাছ ব্যবসায়ী হওয়ার সুবাদে আঁশ জোগাড় করতে বেগ পেতে হয় না। তাঁর হাতের যাদুতে আঁশে ফুটে ওঠে গোলাপ, পাখি, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি। এই শিল্পকর্ম রাজ্য সরকারের উদ্যোগে বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে শেখান তিনি। বলেন, ‘চার থেকে ১০ কেজি ওজনের মাছের আঁশ দিয়ে কাজ করতে সুবিধা হয়। আঁশ জলে নষ্ট হয় না। ভাঙে না, পরিবেশবান্ধবও। দিঘাতে রথের সময় মুখ্যমন্ত্রীকে ওঁর নিজের ছবি উপহার দেওয়া হয়েছিল।’ তিনি জানান, ২২ বছরের ছেলে ও ১৫ বছরের মেয়ে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন। মেয়ে শয্যাশায়ী। ছেলেও হাঁটা চলা করতে পারে না। তাঁদের টিনের চালের বাড়ি। মেয়ে প্রতিবন্ধী ভাতা পায় না। তার আধার কার্ড নিয়ে সমস্যা আছে। বহুবার প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন। তবে সরকারি বাড়ি পাননি। পান না সরকারি শিল্পীর স্বীকৃতি ও ভাতা।