সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: পৃথক তিনটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এল ফুলবাড়ি এলাকায়। মৃতদের মধ্যে রয়েছে এক নবম শ্রেণির ছাত্রী, ৪০ বছরের স্থানীয় বাসিন্দা এবং অজ্ঞাত পরিচয় এক বৃদ্ধ। তিনটি ঘটনারই তদন্ত শুরু করেছে নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ।
সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: পৃথক তিনটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এল ফুলবাড়ি এলাকায়। মৃতদের মধ্যে রয়েছে এক নবম শ্রেণির ছাত্রী, ৪০ বছরের স্থানীয় বাসিন্দা এবং অজ্ঞাত পরিচয় এক বৃদ্ধ। তিনটি ঘটনারই তদন্ত শুরু করেছে নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ।
ফুলবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্রীরামপুর এলাকায় মৃত্যু হয় নবম শ্রেণির ছাত্রী বর্ষা রায়ের। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে চা-বিস্কুট খাওয়ার পর বাইরে বেরিয়েছিল বর্ষা। পরে নিজেদের হোটেল ঘুরে বাড়ি ফিরে নিজের ঘরে যায়। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর দেওয়া হয় নিউ জলপাইগুড়ি থানায়। পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
বর্ষার মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্য থেকে প্রতিবেশী কেউই। পরিবারের দাবি, সম্প্রতি মায়ের সঙ্গে সামান্য কথা কাটাকাটি হলেও এদিন কোনো গণ্ডগোল হয়নি। আচমকা কেন এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে ধোঁয়াশায় পরিবার। প্রাণচঞ্চল ওই ছাত্রীর মৃত্যুতে এলাকায় কান্নার রোল পড়ে যায়।
অন্যদিকে, অকালেই প্রাণ হারালেন ফুলবাড়ির আমাইদিঘি এলাকার বাসিন্দা ৪০ বছরের দীপু রায়। বুধবার রাতে নিজের বাইকে তাঁর পরিচিত এক কাস্টমস আধিকারিককে শিলিগুড়িতে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় তিনবাত্তি এলাকায় একটি গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর জখম হন তিনি। দুর্ঘটনার পর নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যায়। সেখান থেকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিলেও তার আগেই মৃত্যু হয় দীপুর। তাঁর স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। তরতাজা এই যুবকের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকে পাথর পরিবার। দুর্ঘটনার পর ঘাতক গাড়ির সন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এদিকে, এদিন সকালে আমাইদিঘি স্কুল সংলগ্ন একটি ঘর থেকে এক বৃদ্ধের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করলেও ওই বৃদ্ধের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। বাইরে থেকে আসা ওই ব্যক্তি কেন ওই এলাকায় ছিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তিনটি মৃতদেহই ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পৃথক তিনটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চালাচ্ছে নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ। • বর্ষার মৃত্যুতে শোকার্ত পরিজনরা।