Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সহ সভাধিপতির বাধায় আটকে বড় প্রকল্প, রিপোর্ট যাচ্ছে নবান্নে

সহ সভাধিপতির বাধায় আটকে বড় প্রকল্প, রিপোর্ট যাচ্ছে নবান্নে
  • ১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
পিনাকী ধোলে, পুরুলিয়া: দুঃস্থ, অনাথ শিশুদের জন্য পুরুলিয়া জেলায় তৈরি হওয়ার কথা রয়েছে সরকারি হোম। এর জন্য গণশিক্ষা সম্প্রসারণ দপ্তরকে পুরুলিয়া-২ ব্লকের পিঁড়রা গ্রামপঞ্চায়েতের গোপালপুর মৌজায় ১০ একর জমিও হস্তান্তর করেছে জেলা প্রশাসন। জমির সীমানায় প্রাচীর তৈরির কাজ শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই। সেই প্রাচীর তৈরিতেই বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠল জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি সহ তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে। গোটা বিষয়টি নবান্নে রিপোর্ট আকারে পাঠানোর তোড়জোড় শুরু করছে জেলা প্রশাসন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রের খবর, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রকল্পের শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শুরু হয়েছে সীমানা প্রাচীর তৈরির কাজ। প্রকল্প রূপায়ণের দায়িত্বে রয়েছে পূর্তদপ্তর। তিনদিকের সীমানা প্রাচীর হয়েও গিয়েছে। একদিকের প্রাচীর তৈরি নিয়েই বেঁধেছে যত গণ্ডগোল। গত রবিবার গ্রামে যান জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় সহ স্থানীয় তৃণমূল নেতারা। সহ সভাধিপতির দাবি, এতদিন মাঠটি প্রাচীর দিয়ে ঘেরা না থাকায় আশেপাশের বলরামপুর, চাকিরবন, পলাশকলা, লোহারশোল, ডাবর, শিমু্লট্যাঁড়, পালঞ্জা সহ একাধিক গ্রামের মানুষজন মাঠের মাঝখানের মেঠোপথ ধরে যাতায়াত করত। ফলে সহজেই পঞ্চায়েত কার্যালয়, পলাশতলা-গোপালপুর স্কুল কিংবা নিকটস্থ সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাতায়াত করা যায়। তাই অন্তত ১৫ ফুট ছেড়ে প্রাচীর তৈরি হোক। 
তবে, এনিয়ে গোপালপুরের বাসিন্দাদের একাংশের সঙ্গেই তর্কে জড়িয়ে পড়েন সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়। বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এখানে তো কোনও পাকা রাস্তা নেই। তাহলে রাস্তার অজুহাতে কেন ১৫ ফুট জায়গা ছাড়তে হবে? যেরকমভাবে সরকারি প্রকল্প হচ্ছে সেরকমই হোক। স্কুলের পাশ দিয়ে তো একটা শর্টকাট রাস্তা রয়েছে। প্রয়োজনে সেই রাস্তা দিয়েই বাসিন্দারা যাতায়াত করবে। 
সুজয়বাবুর সঙ্গে গ্রামবাসীদের তর্কাতর্কির একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যার সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’। ভিডিওতে এক বাসিন্দাকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘এখানে প্রোমোটারের ৪২বিঘা জমি রয়েছে। সেই জমিতে যাওয়ার রাস্তা বের করে দেওয়ার জন্যই সরকারি কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে। শাসক দলের অনেকে টাকাও খেয়েছে। তাই ১৫ফুট জায়গা ছাড়তে হবে বলে এত আন্দোলন।’
এনিয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা পুরুলিয়া-২ পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ রাজপতি মাহাত বলেন, এরধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আশেপাশের সমস্ত গ্রামের মানুষ আমাদের পক্ষে রয়েছে। তারা চাইছে, রাস্তার জন্য ১৫ফুট জায়গা ছেড়েই প্রাচীর দেওয়া হোক। জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি বলেন, ‘রাস্তাটার কতটা প্রয়োজন তা প্রশাসন বুঝতে চাইছে না। আপাতত প্রকল্পের কাজ বন্ধ রেখে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু, প্রশাসন আলোচনায় বসতে নারাজ। এটা দুর্ভাগ্যজনক।’ তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘মানুষ এনিয়ে আন্দোলনে নামতে চাইলে আমি মানুষের সঙ্গে আছি।’ যদিও প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ‘বিষয়টি রাজ্য থেকে প্রতিনিয়ত নজর রাখছে। রাজ্যকে সবটা জানানো হয়ছে। প্রকল্পের কাজ কোনওভাবেই যাতে বন্ধ না হয়, তার জন্য কড়া নির্দেশ রয়েছে রাজ্যের।’
সম্পর্কিত সংবাদ