অভিষেক পাল, বহরমপুর: হরিহরপাড়ার বহড়ান এলাকার আজমতপুরের মিনারুল শেখের বাড়ি ছিল জঙ্গিদের ‘সেফ হাউস’! বাড়িতে রয়েছে দু’টি রুম। সেখানে নিজের বউ ও দুই ছেলেকে নিয়ে থাকত মিনারুল। মাঝেমধ্যে বাংলাদেশ এবং অসম থেকে বিভিন্ন লোকজন এসে উঠত তার বাড়িতে। নিজেরা এক ঘরে চলে এসে অন্য ঘরে বাকিদের থাকার ব্যবস্থা করত মিনারুল। বাড়িতে আসা জঙ্গিদের নিজেদের আত্মীয় বলে এলাকাবাসীদের কাছে পরিচয় দিত। শীর্ষ জঙ্গি নেতাদের বাড়িতে নিয়ে এসে নিরাপদ আশ্রয় করে দিয়ে খুব অল্প দিনেই তাদের কাছে সে বিশ্বস্ত হয়ে উঠেছিল বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। গ্রামের সাদাসিধে মিনারুলের বাড়িতে কারা আসছে, সে ব্যাপারে খুব একটা মাথা ঘামাত না গ্রামবাসীরা। তবে এখন তাদের কাছে বিষয়টি জলের মতো পরিষ্কার!
Advertisement
ওই বাড়ির পাশেই আলাদা দু’টি ঘরে থাকেন মিনারুলের বয়স্ক বাবা ও মা। তাঁরাও ঘুণাক্ষরে টের পাননি যে ছেলের বাড়িতে কারা আসছে। গত ১৭ ডিসেম্বর ভোররাতে অসম পুলিস ও এসটিএফের যৌথ অভিযানে মিনারুলকে গ্রেপ্তারের পর তাঁরা আকাশ থেকে পড়েছেন। বাড়ির সদস্যদের সে জানিয়ে যেত, অসম থেকে পেঁয়াজের বীজ আনতে যাচ্ছে। সেখানে গিয়ে সে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছে বলেই খবর মিলেছে। ফেরার পথে যাতে কারও সন্দেহ না হয়, সেই জন্য সে উচ্চ ফলনশীল পেঁয়াজের বীজ নিয়ে আসত এলাকায়। সেই বীজ চড়া দামে চাষিদের বিক্রি করে ভালোই মুনাফা করত মিনারুল। আবার মাঝে মধ্যেই সঙ্গে থাকত অসমের ‘পরিচিত’রা। ওপারের জঙ্গিদেরই সে পরিচিত সাজিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে আসত বলে জানা গিয়েছে। এমনকী সে নিজেও মাঝে মধ্যে ওই জঙ্গিদের সহযোগিতায় চোরাপথে ওপার থেকে ঘুরে এসেছে। তবে সবটাই হতো এই পেঁয়াজের বীজ আনতে যাওয়ার ছলে।
যদিও মিনারুলের পরিবারের সদস্যদের দাবি, সে কখনও বাজে কাজের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে না। চাষবাসের সঙ্গে যুক্ত ছিল। খুব ভালো পাম্প সারাই করতে পারত। গ্রামের অনেককেই পেঁয়াজের বীজ এনে দিয়েছিল। সেই জন্য সে মাঝেমধ্যে অসমে যেত।
চলতি বছরের শেষে লালগোলা সীমান্তবর্তী এলাকার একটি ‘জলসা’য় যোগ দিতে আনসারুল্লা বাংলা টিমের (এবিটি) প্রধান জসিমউদ্দিন রহমানির মুর্শিদাবাদে আসার কথা ছিল। জসিমউদ্দিনের সঙ্গে আরও কয়েকজন এপারে আসত বলে খবর মিলেছে। হরিহরপাড়ায় মিনারুলের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার কথা ছিল রহমানি এবং তাদের। কেরল থেকে ধৃত জঙ্গি শাদ রবিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই তথ্য পেয়েছে অসম পুলিসের এসটিএফ। শাদ রবিরও ওই বাড়িতে ভালোই যাতায়াত ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্লাস থ্রি পাশ মিনারুল যন্ত্রপাতি সারাইয়ের কাজে অত্যন্ত দক্ষ ছিল। গ্রামে কারও ধান কাটার মেশিন, ট্রাক্টর এবং জল সেচের পাম্প খারাপ হলেই ডাক পড়ত মিনারুলের। প্রায় নিখরচায় তা সারিয়ে দিত সে। এভাবেই গ্রামবাসীদের খুব ‘কাছের’ হয়ে ওঠার চেষ্টা করছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্রামে মাঝেমধ্যেই বাইরে থেকে লোকজন আসত। সকলেই মিনারুলের বাড়িতে এসে উঠত। আমরা তো জানতাম মিনারুলের আত্মীয় এসে থাকত। কিন্তু, এখন জানতে পারছি, ওরা সকলেই সব কুখ্যাত জঙ্গি। এলাকার ছেলে যে এমন কাজ করবে, তা কখনই ভাবিনি। ওর জন্য পুরো গ্রামের বদনাম হয়ে গেল।
যদিও মিনারুলের পরিবারের সদস্যদের দাবি, সে কখনও বাজে কাজের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে না। চাষবাসের সঙ্গে যুক্ত ছিল। খুব ভালো পাম্প সারাই করতে পারত। গ্রামের অনেককেই পেঁয়াজের বীজ এনে দিয়েছিল। সেই জন্য সে মাঝেমধ্যে অসমে যেত।
চলতি বছরের শেষে লালগোলা সীমান্তবর্তী এলাকার একটি ‘জলসা’য় যোগ দিতে আনসারুল্লা বাংলা টিমের (এবিটি) প্রধান জসিমউদ্দিন রহমানির মুর্শিদাবাদে আসার কথা ছিল। জসিমউদ্দিনের সঙ্গে আরও কয়েকজন এপারে আসত বলে খবর মিলেছে। হরিহরপাড়ায় মিনারুলের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার কথা ছিল রহমানি এবং তাদের। কেরল থেকে ধৃত জঙ্গি শাদ রবিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই তথ্য পেয়েছে অসম পুলিসের এসটিএফ। শাদ রবিরও ওই বাড়িতে ভালোই যাতায়াত ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্লাস থ্রি পাশ মিনারুল যন্ত্রপাতি সারাইয়ের কাজে অত্যন্ত দক্ষ ছিল। গ্রামে কারও ধান কাটার মেশিন, ট্রাক্টর এবং জল সেচের পাম্প খারাপ হলেই ডাক পড়ত মিনারুলের। প্রায় নিখরচায় তা সারিয়ে দিত সে। এভাবেই গ্রামবাসীদের খুব ‘কাছের’ হয়ে ওঠার চেষ্টা করছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্রামে মাঝেমধ্যেই বাইরে থেকে লোকজন আসত। সকলেই মিনারুলের বাড়িতে এসে উঠত। আমরা তো জানতাম মিনারুলের আত্মীয় এসে থাকত। কিন্তু, এখন জানতে পারছি, ওরা সকলেই সব কুখ্যাত জঙ্গি। এলাকার ছেলে যে এমন কাজ করবে, তা কখনই ভাবিনি। ওর জন্য পুরো গ্রামের বদনাম হয়ে গেল।



