নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এলাকায় এলাকায় মানুষের কাছে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তারপরেও ঝাড়গ্রামে তৃণমূলের জোরদার রাজনৈতিক কর্মসূচি চোখে পড়ছে না। সাংগঠনিক রদবদলের অপেক্ষায় দিন গুনছেন নেতারা। দীর্ঘদিনের পোড়খাওয়া নেতারা যা নিয়ে আক্ষেপ করছেন। নিচুতলার কর্মীরা দিশাহারা।
Advertisement
তৃণমূল উনিশ সালের লোকসভা ভোটের বিপর্যয় কাটিয়ে একুশের বিধানসভা ভোটে ঘুরে দাঁড়ায়। চব্বিশের লোকসভা ভোটে তৃণমূল প্রার্থী কালিপদ সোরেন বিপুল মার্জিনে জয়লাভ করেন। পরাজয়ের পর থেকে বিজেপি জেলায় রাজনৈতিক জমি হারিয়েছে। জনভিত্তি হারানো বামদলগুলি অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই ব্যস্ত। এই ফাঁকা মাঠেও জেলার তৃণমূল নেতাদের দাপিয়ে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে না। জেলার প্রথম সারির অধিকাংশ নেতানেত্রী সাংগঠনিক রদবদলের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। নিচুতলার কর্মীদের অভিযোগ, সবাই জল মাপছেন। পদ পেলে তবেই বোধহয় তাঁরা মাঠে নামবেন। দীর্ঘদিনের পোড়খাওয়া পুরনো নেতারা যা নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন। একসময়ে তাঁরা বাম অত্যাচার বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। প্রাপ্তির আশা ছাড়াই তাঁরা দল করেছেন। পদ পেলে মাঠে নামার মানসিকতা পুরনো নেতারা মেনে নিতে পারছেন না। তৃণমূলের অন্দরে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, ‘দাদা আশায় আছি, ভালো কিছু হবে নিশ্চয়ই’ গোছের কথা। সাংগঠনিক পদ থেকে বাদ পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেতাদের নিষ্ক্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। জেলার পোড় খাওয়া এক তৃণমূল নেতা বলেন, জেলায় তৃণমূলের বড় কোনও কর্মসূচি নেই। দলনেত্রী মানুষের কাছে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু অধিকাংশ নেতানেত্রী বলতে পারবেন না, কোন কোন এলাকায় গিয়েছেন। একমাস আগে নামকে ওয়াস্তে জেলা নেতৃত্বের বৈঠক হয়েছিল। ব্লক ও অঞ্চলের দলীয় অফিসে নেতানেত্রীদের দেখা যায় না। গোষ্ঠী রাজনীতি মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছে। জেলার অশান্ত সময়ের রাজনীতিকে সামনে এনে কেউ কেউ ক্ষমতার অলিন্দে ঢোকার চেষ্টা করছেন। লালগড়ের ধামরো, গোপীবল্লভপুর ব্লকের গ্ৰামীণ এলাকায় বালি মাফিয়াদের সঙ্গে প্রশাসনের নিচুতলার কর্মী ও স্থানীয় নেতাদের আঁতাতের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। বড় পদ পাওয়া নেতানেত্রীদের জীবনযাপনে বদল এসেছে। তাঁরা সাংগঠনিক রদবদলের দিকে তাকিয়ে আছেন। এই মনোভাব তো আমাদের দলের আদর্শ নয়। জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি প্রসূন ষড়ঙ্গি বলেন, জেলায় দলের রাজনৈতিক কাজকর্ম প্রায় বন্ধ বলা চলে। ব্যক্তিগত স্তরে কেউ কেউ অবশ্য কাজ করছেন। ব্লক ও অঞ্চলের দলীয় অফিসগুলোতে কাউকে দেখা যায় না। অনেকেই সাংগঠনিক রদবদলের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। এটাই বাস্তব চিত্র। এখনই পদক্ষেপ না নিলে ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে এর প্রভাব পড়বে। জেলা তৃণমূলের সভাপতি দুলাল মুর্মু বলেন, সাংগঠনিকভাবে জেলাজুড়ে নানা কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। তবে সেটা যথেষ্ট নয়। পদ পাওয়ার পর কর্মসূচিতে অংশ গ্ৰহণ করব, কাজ করব এটা দল সমর্থন করে না। তবে কিছু নেতানেত্রী এই মানসিকতা দেখাচ্ছেন। রাজ্য নেতৃত্বকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব নিশ্চয়ই পদক্ষেপ করবেন।



