Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সংগঠন মজবুত করতে জেলা তৃণমূলের সর্বস্তরে ব্যাপক রদবদলের সম্ভবনা 

সংগঠন মজবুত করতে জেলা তৃণমূলের সর্বস্তরে ব্যাপক রদবদলের সম্ভবনা 
  • ২১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: উপ নির্বাচন শেষ। এবার লক্ষ্য ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে জেলা সংগঠনে ব্যাপক রদবদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একেবারে বুথস্তর থেকে জেলাস্তর পর্যন্ত হবে রদবদল। বিধানসভা ভোটের আগে সংগঠন ঢেলে সাজানোর জন্যই এমন রদবদলের পরিকল্পনা বলে মত রাজনৈতিক মহলের। এক্ষেত্রে বহু এলাকার অঞ্চল সভাপতি, বুথ সভাপতি পদে পরিবর্তন করা হবে। পাশাপাশি বেশ কয়েকজন ব্লক সভাপতিকে সরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের কথায়, স্বচ্ছতার দিক খতিয়ে দেখা হবে। স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মিলবে না পদ। এছাড়া সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হতেই হবে। দলের অন্দরে গোষ্ঠীকোন্দলে লিপ্ত থাকলেও মিলবে কড়া শাস্তি। 
Advertisement
এদিন তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, দলের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। দল যেটা ঠিক করবে, সকলকে তা মেনে নিতে হবে। তবে আমাদের লক্ষ্য বিধানসভা নির্বাচন। তাই এখন থেকেই সাংগঠনিক কাঠামো আরও মজবুত করতে হবে। সকলকে একসঙ্গে চলার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। আর বিরোধীদের নিয়ে কিছুই বলার নেই। ওদের জবাব দেবে মানুষ। 
জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ রফিক বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের আর বেশিদিন বাকি নেই। এখন থেকেই জোরকদমে ময়দানে নামার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। আগে থেকে পড়াশোনা করলে, পরীক্ষার সময় আর চিন্তা থাকবে না। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত লোকসভা ভোটের আগে থেকেই সংগঠন মজবুত করার লক্ষ্যে মাঠে নামে তৃণমূল নেতৃত্ব। পরবর্তী সময়ে মেদিনীপুর লোকসভা তৃণমূলের দখলে গেলেও নির্বাচনের সময় দলের অন্দরেই সাংগঠনিক দুর্বলতার নানা দিক উঠে আসে। শুধু সংগঠনিক ব্যর্থতার কারণেই মেদিনীপুর পুর এলাকায় ভালো ফল করতে পারেনি ঘাসফুল শিবির। এনিয়ে দফায় দফায় পর্যালোচনাও হয়। তবে সমাধানসূত্র মেলেনি বলেই খবর তৃণমূল সূত্রে। জানা গিয়েছে, উপ নির্বাচনের আগেও সাংগঠনিক দুর্বলতা বারংবার প্রকাশ্যে এসেছে। তাই দলের তরফে বিশেষ অবজার্ভারও নিয়োগ করা হয়। ২০২৬ সালের বিধানসভার কথা মাথায় রেখে সাংগঠনিক দুর্বলতা মুছে ফেলতে চাইছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
এক বিজেপি নেতা বলেন, তৃণমূলের অন্তরে সবচেয়ে বেশি গোষ্ঠী কোন্দল রয়েছে। এরফলে আমাদের অনেকটাই সুবিধা হচ্ছে। তৃণমূলের এক অংশের মানুষ এতটাই দুর্নীতিগ্রস্ত যে, মানুষ আর পছন্দ করছে না। তবে আমাদের দলেও রদবদলের প্রয়োজন রয়েছে।
এক তৃণমূল নেতা বলেন, শুনেছি ব্যাপক রদবদল হবে। অনেকেই বহুদিন ধরে পদ আগলে বসে আছে। তাঁদের সরিয়ে নতুনদের সুযোগ দেওয়া হবে। 
একইসঙ্গে বহু নেতার সম্পর্কে জেলা নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছে। অনেক নেতাই চোখের আড়ালে বিজেপির সঙ্গেও যোগাযোগ রেখেছে। এছাড়া অনেক নেতারই সম্পত্তির পরিমাণ বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। যা সাধারণ মানুষ ভালো চোখে দেখছে না। অপরদিকে, উপ নির্বাচনেও অনেকে দল বিরোধী কাজ করেছে। যা একেবারেই ভালো চোখে দেখেনি তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব। 
জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাস বলেন, চোরদের মধ্যে সৎ মানুষ থাকতে পারে না। যে নেতা বড় তোলাবাজ, তাঁর পদও অনেক উপরে। নেতারা তোলা তুলতে পারছে না হয়তো। তাই রদবদল করা হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ