Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাগরপাড়ায় ২টি সোনার দোকানে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

সাগরপাড়ায় ২টি সোনার দোকানে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার ২
  • ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, ডোমকল: সাগরপাড়ায় পরপর দু’টি সোনার দোকানে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনার সাতদিন পর দু’জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। ধৃতদের নাম মকসেদ মণ্ডল ও আনোয়ার শেখ। মকসেদের বাড়ি সাগরপাড়ার নবীনগ্রামে। আনোয়ারের বাড়ি রানিনগরের গোধনপাড়ায়। চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মকসেদকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে পরিবারের লোকজন দাবি করেন। এদিন সকালে মকসেদের স্ত্রী সহ পরিবার ও প্রতিবেশীরা সাগরপাড়া থানার কিছুটা দূরেই অবরোধ করেন। রক্সিমোড়ে রাস্তায় বেঞ্চ পেতে তাঁরা বসে পড়েন। ঘণ্টাখানেক ধরে চলে অবরোধ। বিক্ষোভের জেরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে শেখপাড়া-জলঙ্গি রাজ্য সড়ক। রাস্তার দু’পাশে গাড়ির লম্বা লাইন পড়ে। পরে পুলিসের আশ্বাসে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন।
Advertisement
উল্লেখ্য, গত ১৩ ডিসেম্বর সাগরপাড়ার নরসিংহপুরে পরপর দু’টি সোনার দোকানে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছিল। মাঝরাতে শাটারের তালা ভেঙে, ভল্ট কেটে দু’টি দোকান থেকে প্রায় ২৮ লক্ষ টাকার গয়না চুরি করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিস। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিস দু’জনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, চুরির ঘটনায় মূলত রেকির বিষয়টি দেখেছিল মকসেদ। আর আনোয়ার অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গেই দোকানের গয়না হাপিশ করেছিল। তবে দু’জন গ্রেপ্তার হলেও ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে বলে পুলিস জানিয়েছে। ধৃতদের শুক্রবার বহরমপুর আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাদের সাতদিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিস তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
যদিও ধৃত মকসেদের পরিবারের দাবি, তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাচ্ছে পুলিস। ঘটনার প্রতিবাদে এদিন তাঁরা রাস্তা অবরোধ করেন। মকসেদের দিদি জীবন বিবি বলেন, আমার ভাইকে তিনদিন আগে পুলিস আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তুলে এনেছে। এরপর তিনদিন ধরে আমার ভাইকে থানায় মারধর করেছে। ওরা জোর করে সোনা চুরির ঘটনায় ভাইকে যুক্ত করতে চাইছে। কোনও প্রমাণ ছাড়াই পুলিস ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে। মকসেদের স্ত্রী মেহেনারা বিবি বলেন, দিন কয়েক আগে প্রথমে সাদা পোশাকে পুলিস একবার আমাদের বাড়িতে এসেছিল। তার দু’দিন পর স্বামীর অবর্তমানে পুলিস গিয়ে আমাদের বাড়ির সবকিছু লন্ডভন্ড করে দিয়ে আসে। তিনদিন আগে স্বামীকে পুলিস তুলে নিয়ে যায়। পুলিস বলছে, চোরেদের মধ্যে কোনও এক গাড়ির চালকের সঙ্গে আমার স্বামীর ফোনে কথা হয়েছিল। অথচ আমার স্বামী ঘটকালি করে। বিয়ের জন্য ফোনে কারও সঙ্গে কথা হতেই পারে। পুলিস বিনাদোষে কোনও প্রমাণ ছাড়াই স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে। 
সম্পর্কিত সংবাদ