Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাগরপাড়ায় কেন এত তীব্র বিস্ফোরণ? তদন্তে পুলিস

সাগরপাড়ায় কেন এত তীব্র বিস্ফোরণ? তদন্তে পুলিস
  • ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
অভিষেক পাল, বহরমপুর: রবিবার রাতে সাগরপাড়ার খয়েরতলার বোমা বিস্ফোরণে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ভয়াবহ ওই বিস্ফোরণের জেরে মুহূর্তের মধ্যে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছিল একতলা পাকা বাড়ি। চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যায় বাড়ির ঢালাই। লোহার রড থেকে আলগা হয়ে কয়েক ফুট দূরে গিয়ে পড়ে সিমেন্টের চাঁই। দরজা, জানালা খুলে ছিটকে যায়। ধ্বংসস্তূপ দেখে প্রশ্ন উঠেছিল, সাধারণ কোনও বোমা ফেটে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে, নাকি মজুত ছিল বিশেষ শক্তিশালী কোনও বিস্ফোরক? ঘটনার পর দু’দিন পেরিয়ে গেলেও বড় কোনও সূত্র হাতে পাননি তদন্তকারী অধিকারিকারা। ঘটনার রহস্য উন্মোচনে সাহায্য নেওয়া হয় ফরেন্সিক টিমের। বুধবার খয়েরতলার বিস্ফোরণস্থলে পৌঁছয় ফরেন্সিক টিম। চার ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ বেশ কিছুক্ষণ ধরে নমুনা সংগ্রহ করেন। বিস্ফোরণে ভেঙে পড়া বাড়ির মধ্যে ঢুকে পিলার ও সিমেন্টের চাঁই সরিয়ে বিভিন্ন ‘ডাস্ট’ নমুনা হিসেবে সংগ্রহ করে তাঁরা পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছেন।
Advertisement
জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার(লালবাগ) রাসপ্রীত সিং বলেন, ফরেন্সিক দল নমুনা সংগ্রহ করেছে। বিস্ফোরণস্থল থেকে কী পাওয়া গেল তার রিপোর্ট আমাদের তদন্তের কাজে লাগবে। তবে প্রাথমিক তদন্তে আমাদের অনুমান, বোমা বাঁধার আগেই বিস্ফোরণ হয়েছে। কী ধরনের বিস্ফোরক ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় তিনজনেরই মৃত্যু হয়েছে। আমরা বিস্ফোরণস্থল ভালোভাবে খতিয়ে দেখেছি, সেখানে আর কোনও জখম বা মৃত ব্যক্তির হদিশ মেলেনি। 
ঘটনার পরদিন সোমবার সকাল থেকে সিআইডির বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ওই ধ্বংসস্তূপ পরীক্ষা করে বিস্ফোরণের কিছু নমুনা সংগ্রহ করেন। তাঁদের অনুমান, শক্তিশালী কোনও বিস্ফোরক এনে বোমা বাঁধার কাজ শুরু হতেই বিস্ফোরণ ঘটে। বোমা তৈরির বেশ কিছু উপকরণ পাওয়া গিয়েছে। তাছাড়া তৈরি বোমা ফাটলে যে স্প্লিন্টার ও সুতালি পাওয়া যায়, সেগুলি এখান থেকে উদ্ধার হয়নি বলে জানিয়েছেন বম্ব স্কোয়াডের আধিকারিকরা। 
বম্ব স্কোয়াডের এক অফিসার বলেন, ওইদিন ঘটনাস্থল থেকে আমরা বেশ কিছু সেলোটেপ, দড়ি, তুলো এবং সাদা রঙের পাউডার পেয়েছি। সাধারণত সকেট বোমা বাঁধার পর কাপড়ের টুকরো দিয়ে মুখ পেঁচানো হয়। সেজন্য এই তুলো এবং কাপড়ের টুকরো আনা হয়ে থাকতে পারে। আবার যে দড়ি পাওয়া গিয়েছে, তা ক্রুড বোমা তৈরির জন্য ব্যবহার হয়। সুতরাং কী ধরনের বোমা বাঁধার কাজ চলছিল, তা তদন্ত সাপেক্ষ। তবে বিস্ফোরক যে অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল তা ধ্বংসস্তূপ দেখেই বোঝা যাচ্ছে।  
গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, রাত ১১টা নাগাদ গোটা এলাকা ভূমিকম্পের মতো কেঁপে উঠেছিল। কিছুক্ষণের জন্য তাঁরা কার্যত হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। পরে বিস্ফোরণের কথা জানতে পেরে তাঁরা আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। গ্রামবাসীদের দাবি, এই ধরনের ঘটনা রুখতে পুলিস কড়া পদক্ষেপ নিক।
সম্পর্কিত সংবাদ