Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সুগার ধরা পড়ার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ভূরিভোজ, পলাশিপাড়ায় আমন্ত্রিত ৫০০

সুগার ধরা পড়ার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ভূরিভোজ, পলাশিপাড়ায় আমন্ত্রিত ৫০০
  • ৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, তেহট্ট: রবিবার সকাল থেকেই নিতাই প্রামানিকের বাড়িতে তুমুল ব্যস্ততা। ৫০০ লোককে খাওয়ানোর আয়োজন করা তো আর চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। মাছ, মাংস, চাটনি, মিষ্টি মিলিয়ে এলাহি আয়োজন। অনেকে দূর থেকেও আসবেন। কিন্তু কী উপলক্ষ্যে এই খাওয়াদাওয়া? না, বিয়ে, অন্নপ্রাশন, জন্মদিন, সাধভক্ষণ, শ্রাদ্ধ এসব কিছুই নয়। উপলক্ষ্য শুনে চক্ষু চড়কগাছে ওঠার উপক্রম সবার। নিতাইবাবুর সুগার ধরা পড়ার ৫০ বছর পূর্তি, সেই উপলক্ষ্যেই এই খাওয়াদাওয়া। পলাশিপাড়া থানা এলাকার এক গ্রামে এই আয়োজন। যাঁদের সুগার আছে, তেমনই ৫০০ লোককে নিমন্ত্রণ করা হয়েছে। তার মধ্যে পরিচিত মানুষের পাশাপাশি অপরিচিত লোকজনও রয়েছেন। অবিবাহিত নিতাইবাবুর বয়স এখন ৭৪। অর্থাৎ তাঁর সুগার ধরা পড়েছিল ২৪ বছর বয়সে। তারপরেও যে এত বছর সুস্থ, স্বাভাবিক ভাবে বাঁচা যায়, সেই বার্তা দিতেই এই ভূরিভোজের আয়োজন করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, চিকিৎসকের পরামর্শ মতো নিয়মিত ওষুধ খাওয়া এবং শারীরিক পরিশ্রম করলে সুগার নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছুই নেই। এই বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এই খাওয়াদাওয়া। 
Advertisement
নিতাই প্রামানিক বলেন, চব্বিশ বছর বয়সে আমার সুগার ধরা পড়ে। তখন থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো পরিশ্রম, শরীরচর্চা, নিয়ম মেনে ওষুধ খাচ্ছি। এখনও আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি। আমার বয়স ৭৪ বছর। সে হিসেবে আমার শরীরে সুগারের বয়স ৫০ বছর পূর্ণ হল। সুগার নিয়েও যে দীর্ঘদিন সুস্থতার সঙ্গে বেঁচে থাকা যায়, এই বার্তা সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এলাকার কিছু মানুষকে আমার বাড়িতে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, পেশায় গৃহশিক্ষক নিতাইবাবু অল্প বয়সে সুগার ধরা পড়ায় বিয়ে করেননি। তিনি খুবই পরিশ্রমী। এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে গৃহশিক্ষকতা করে আসছেন। পঞ্চাশ বছর আগে শারীরিক সমস্যার জন্য চিকিৎসকের কাছে গেলে বেশ কিছু পরীক্ষার সঙ্গে সুগার পরীক্ষাও করতে বলেন। রিপোর্টে দেখা যায়, তাঁর অতিরিক্ত মাত্রায় সুগার রয়েছে। শুরু হয় ওষুধ খাওয়া। চিকিৎসকের পরামর্শে শারীরিক পরিশ্রম, প্রাতভ্রমণের পাশাপাশি শরীরচর্চা শুরু করেন। কিছুদিন পর পুনরায় সুগার পরীক্ষা করলে জানতে পারেন, তাঁর সুগার নিয়ন্ত্রণে। তাঁর কয়েক বছর পর ফের সুগার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তারপর থেকে আর ডাক্তারের কথা অমান্য করেননি। নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ওষুধ খেয়ে চলেছেন, আজও। গ্রামের শামিম হক জানান, নিতাইবাবু আমাদের বার্তা দিতে চান, শরীরে সুগার নিয়েও দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকা যায়। এই উপলক্ষ্যে বিভিন্ন জায়গার প্রায় ৫০০ জনকে নিমন্ত্রণ করে খাওয়ালেন।  
সম্পর্কিত সংবাদ