Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সংঘর্ষের পর থমথমে ভূতনির লুটিহারা আতঙ্কে ঘুম উড়েছে বাসিন্দাদের, ঘরছাড়া পুরুষরা

সংঘর্ষের পর থমথমে ভূতনির লুটিহারা আতঙ্কে ঘুম উড়েছে বাসিন্দাদের, ঘরছাড়া পুরুষরা
  • ১০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, মানিকচক: ভূতনির লুটিহারায় সংঘর্ষের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টা পরেও থমথমে পরিবেশ। ছড়িয়ে ছিটিয়ে পাথর। পোড়া বাড়ি থেকে হাওয়ায় এখনও ছড়াচ্ছে পোড়া গন্ধ। ফের সংঘর্ষের ভয়ে রাতে ঘুম উড়েছে বাসিন্দাদের। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এলাকায় টহল দিচ্ছে পুলিস। এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ভূতনি থানা।
Advertisement
মানিকচকের দক্ষিণ চণ্ডীপুর পঞ্চায়েতের লুটিহারা গ্রামের প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য আদুরী বিবির পরিবারের ১২ জনের নাম বাংলার বাড়ির তালিকায় থাকায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন স্থানীয় যুবক দানেশ আলী। অভিযোগ, সেই আক্রোশে তাঁকে প্রাণে মারার চেষ্টা করে প্রাক্তন সদস্যের স্বামী আবির আলী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। গুরুতর আহত অবস্থায় মালদহ মেডিক্যালে দানেশকে ভর্তি করা হলেও তাঁর অবস্থা এখন স্থিতিশীল।
পরবর্তীতে সেই ঘটনাকে ঘিরে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষে চারজনের বাড়ি পোড়ানো হয়, আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় মোটর সাইকেলে। এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ইট ও কাঁচের বোতল। সোমবার গ্রামে ঢুকতেই দেখা যায় কার্যত পুরুষশূন্য এলাকা। অগ্নিদগ্ধ বাড়িগুলি রয়েছে একই অবস্থায়। বাড়ির বাইরে মোতায়েন পুলিস। কয়েকজন মহিলাকে দেখে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই তাঁরা বিস্তারিত জানালেন। গৃহবধূ ইসমেতারা খাতুনের কথায়, সংঘর্ষের পর থেকে শিশুদের নিয়ে ভয়ে রয়েছি। বাংলার বাড়ির জন্য আমরা টাকা দিয়েছিলাম আবিরকে। তালিকায় নাম না আসায় পরে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলাম। দানেশের মতো আমাদের উপরেও হামলা করতে পারে, এই ভয়ে ঘুম উড়েছে।
ঠিক একই অবস্থা বেরাফুল বিবির। তাঁর মন্তব্য, যেভাবে ইট, বাঁশ ও বোতল বোমা নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে, ফের তেমন কিছু হলে কোথায় যাব জানি না। প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনুক।
ঘটনার পর থেকে দু’পক্ষের বাড়ির সামনে বসানো হয়েছে পিকেট।  এবিষয়ে ভূতনি থানার পুলিস আধিকারিক বলেন, গতকালের ঘটনায় যুক্ত থাকা চারজনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ