


নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকন্যাকে যৌন নিগ্রহের দায়ে অভিযুক্তের দশ বছরের জেল হল। মঙ্গলবার জলপাইগুড়ির বিশেষ পকসো আদালতের বিচারক রিন্টু শূর ওই সাজা ঘোষণা করেন। ১০ বছর জেলের পাশাপাশি সাজাপ্রাপ্তর বিরুদ্ধে ১০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। অনাদায়ে আরও একমাসের জেল। একইসঙ্গে নির্যাতিতা নাবালিকাকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে চার লক্ষ টাকা দিতে বলা হয়েছে ডিস্ট্রিক্ট লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটিকে। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে ময়নাগুড়ির দোমোহনি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
মামলার সরকার পক্ষের আইনজীবী দেবাশিস ধর বলেন, সরস্বতী পুজো উপলক্ষ্যে মাঠে অনুষ্ঠান চলছিল। ওই শিশুকন্যাকে নিয়ে তার মা অনুষ্ঠান দেখতে এসেছিলেন। অভিযুক্তের ওই এলাকাতেই বাড়ি। অনুষ্ঠান দেখতে দেখতে শিশুকন্যাটিকে কোলে নেয় সে। তারপর আড়ালে নিয়ে গিয়ে ওই শিশুকন্যাকে যৌন নিগ্রহ করে অভিযুক্ত যুবক। ঘটনাটি সেসময় বুঝতে পারেননি শিশুকন্যার মা। কিন্তু বাড়ি আসার পর তিনি টের পান, মেয়ের কিছু একটা সমস্যা হচ্ছে। পরদিন শিশুকন্যাকে নিয়ে তিনি ডাক্তারের কাছে যান। চিকিৎসক পরীক্ষা করে বলেন, মেয়েটির সঙ্গে যৌন নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে। এরপরই ওই শিশুকন্যার পরিবার অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে ময়নাগুড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। ঘটনার তদন্তে নেমে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। পরে অবশ্য অভিযুক্ত জামিনে ছাড়া পায়। এদিন ফের তাকে হেফাজতে নিয়ে আদালতে হাজির করে পুলিস। মামলায় মোট আটজন সাক্ষ্য দেন। জলপাইগুড়ি জেলা পুলিস সুপার খণ্ডবাহালে উমেশ গণপত বলেন, ওই ঘটনায় পুলিস ৭৩ দিনের মধ্যে তদন্তপ্রক্রিয়া শেষ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। তাঁর দাবি, প্রতিটি পকসো মামলাতেই পুলিস দ্রুত তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়ার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি জলপাইগুড়ি মহিলা থানায় দায়ের হওয়া একটি পকসো মামলায় পুলিস অভিযোগ দায়েরের ছ’দিনের মাথায় চার্জশিট জমা দিয়েছে।