Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘স্পা’-এর আড়ালে দেহব্যবসা! ক্ষোভে ফুঁসছেন বারাসতবাসী

অশোকনগরের নাবালিকা নিখোঁজের ঘটনার তদন্তে নেমে স্পা-এর আড়ালে দেহব্যবসার পর্দা ফাঁস করেছে বারাসত জেলা পুলিশ।

‘স্পা’-এর আড়ালে দেহব্যবসা! ক্ষোভে ফুঁসছেন বারাসতবাসী
  • ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: অশোকনগরের নাবালিকা নিখোঁজের ঘটনার তদন্তে নেমে স্পা-এর আড়ালে দেহব্যবসার পর্দা ফাঁস করেছে বারাসত জেলা পুলিশ। আর এই আবহে মুখ খুলতে শুরু করেছেন বারাসত ও মধ্যমগ্রামের বাসিন্দারা। শহরে একই কায়দায় অনেক মধুচক্র এখনও ‘সক্রিয়’ বলে অভিযোগ তাঁদের। অথচ পুলিশের তৎপরতা সেভাবে নজরে আসছে না।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি স্পা সেন্টারে কমবেশি দুই থেকে তিনমাসে বদলে যায় তরুণী-যুবতীদের মুখ। মূলত খরিদ্দারদের একঘেয়েমি বোধ যাতে না আসে, সেই দিকে নজর রেখেই এটা করা হয়। এক্ষেত্রে কাজ করছে একটি র‍্যাকেট বা চক্র। সেই চক্রের দৌলতেই স্পা সেন্টারগুলি নিজেদের মধ্যে তরুণী-যুবতীদের অদল-বদল করে কাজ চালায়। অনেকে তরুণী-যুবতী স্পা ছেড়ে চলে যান পানশালায়। আর পানশালায় কাজ করা যুবতীরা চলে আসেন স্পাতে। এই কাজটা করে দালালচক্র।
হাবড়া থেকে মধ্যমগ্রাম, দত্তপুকুর, অশোকনগরে এখন স্পায়ের ব্যবসার রমরমা। সব থেকে বেশি স্পা বারাসত ও মধ্যমগ্রামে। সেন্টারগুলিতে সব থেকে বেশি চাহিদা ২০ বছরের কম বয়সি মহিলাদের। এক্ষেত্রে টাকাও বেশি পাওয়া যায়। বয়স বাড়লে টাকা কমে। পুলিশের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, স্পা সেন্টারে খরিদ্দার প্রতি নেওয়া হয় পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা। সেখান থেকে মালিকরা নেন আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। ২০ বছরের কমবয়সি হলে বাকি আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা পান মহিলারা। বয়স বাড়লে টাকার অঙ্কও কমে। তবে, ন্যূনতম দু’হাজার টাকা পান মহিলারা। আর দু’টি ক্ষেত্রেই সঙ্গে আছে টিপসও। অন্যদিকে, বয়স বাড়লে এই যুবতীরাই হয়ে ওঠেন দালাল।
জানা গিয়েছে, দিনে অন্তত দু’জন খরিদ্দার হয়। মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা রোজগার করেন অনেক মহিলা। তদন্তকারীরা জেনেছেন, এর প্রভাব পড়ে মহিলাদের জীবনযাত্রাতেও। প্রশ্ন উঠছে, স্পায়ের আড়ালে দেহব্যবসার চক্র চলছে, এটা প্রায় সকলেরই জানা। তাহলে এতদিন কেন পদক্ষেপ করেনি পুলিশ? বারাসত শহরের প্রাণকেন্দ্রে এভাবে দিনের পর দিন ধরে চক্র চলছে, অথচ তা জানতেই পারল না পুলিশ! তাহলে কি পুলিশের গোপন সোর্স ভেঙে পড়েছে? প্রশ্ন আমজনতার। এখনও একই কায়দায় অনেক কারবার চলছে বলে অভিযোগ।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশাসনের কাছে ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্ত স্পায়ের তালিকা চেয়ে অভিযান চালানো হবে। স্থানীয়দের দাবি, ফলাও করে নয়, আচমকা হানা দিলে বারাসত পুলিশ জেলার বিভিন্ন শহরের স্পা-এর আসল রূপ প্রকাশ্যে আসবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ