নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদদাতা জঙ্গিপুর: বৃহস্পতিবার ভোরে ঘটেছিল বিপত্তি। প্রবল বৃষ্টির কারণে মুর্শিদাবাদে উত্তরবঙ্গগামী আপ লাইনে তিনডাঙা ও নিউ ফরাক্কা স্টেশনের মাঝে রেললাইন বসে যায়। তখন থেকেই মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল ট্রেন যোগাযোগ। দূরপাল্লার বহু ট্রেন, বিশেষত উত্তরবঙ্গগামী একের পর এক এক্সপ্রেস বাতিল করতে হয়। অবশেষে রেল ট্র্যাকের মেরামতির কাজ শেষ হয়। প্রায় ৬০ ঘণ্টা পর শনিবার সন্ধ্যায় স্বাভাবিক হয় ট্রেন চলাচল।
বসে যাওয়া অংশে নতুন ট্র্যাক বসিয়ে শুরু হয়েছে পরিষেবা। যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এদিন দুপুরে নতুন করে পাতা লাইন দিয়ে একটি মালগাড়ি চালানো হয়। ‘ট্রায়াল রান’ সফল হওয়ার পর যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত হয়। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পান্ডে বলেন, ‘এই প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে আমাদের মূল লক্ষ্যই ছিল যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যত দ্রুত সম্ভব পরিষেবা চালু করা। রেলের সর্বস্তরের কর্মী দিন-রাত এক করে পরিশ্রম করেছেন।’
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনডাঙা ও নিউ ফরাক্কা স্টেশনের মাঝে প্রায় ৮০০ মিটার এলাকাজুড়ে ধস নেমেছিল। প্রবল বৃষ্টিতে নীচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় লাইন প্রায় ২ মিটার বসে যায়। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে তড়িঘড়ি আপ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। খবর পাওয়া মাত্র সেখানে পৌঁছান পূর্ব রেলের আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়াররা। শুরু হয় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় লাইন মেরামতির কাজ। টানা ৫৬ ঘণ্টা কাজ চলে। মাটি ভরাট, স্লিপার বসানো ও লাইন মেরামতির কাজগুলি হয় ধাপে ধাপে। শনিবার দুপুর পর্যন্ত রেলকর্মীরা টানা কাজ চালিয়ে যান। এর মধ্যে এক কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাতেও কর্মীদের উদ্যমে ভাটা পড়েনি। তাঁদের কাজের স্পৃহা ও মনোবল বাড়াতে ময়দানে নেমে পড়েন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পান্ডে স্বয়ং। সারাক্ষণ উপস্থিত থেকে কাজ তদারকির পাশাপাশি হাততালি দিয়ে কর্মীদের উৎসাহিত করতে দেখা যায় তাঁকে। রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তাদের এই আন্তরিকতায় বাড়তি অক্সিজেন পান কর্মীরাও।
বিপত্তির কারণে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শনিবার বিকাল পর্যন্ত ৮৮টি দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়। রেলপথের বিপুল যাত্রীর চাপ গিয়ে পড়ে বাস ও বিমানে। বেসরকারি বাস পরিষেবা এবং বিমানের ভাড়া চড়চড়িয়ে বাড়তে থাকে। অনেকে কয়েক গুন বাড়তি খরচ করে গাড়ি ভাড়া নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধ্য হন। ফলে আচমকাই গাড়িঘোড়ার চাপ বেড়ে যায় জাতীয় সড়কের উপর। তীব্র যানযট সৃষ্টি হয়। গত তিনদিন ধরে গাড়ির হর্নের তীব্র শব্দে তিতিবিরক্ত সংশ্লিষ্ট এলাকার আম জনতা। প্রসঙ্গত, রেল জানিয়েছে, মেরামতির কাজে মোট ৪০০ শ্রমিক যুক্ত ছিলেন। বসে যাওয়া ট্র্যাক স্বাভাবিক উচ্চতায় ফেরাতে সাত ওয়াগন পাথরগুঁড়ো ব্যবহার করা হয়েছে।