প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্ৰাম: ‘অরণ্য সুন্দরী’ ঝাড়গ্রামে এই মার্চের মাঝামাঝি সময়ে উষ্ণতার পারদ ৪০ ডিগ্রির উপরে! বাতাসে আদ্রতার পরিমাণও বেশি। ঘেমে-নেয়ে একসা হচ্ছেন জেলাবাসী। স্বাভাবিকভাবে জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্কের বন্যপ্রাণীদেরও এখন হাঁসফাঁস অবস্থা। এমন দাবদাহের হাত থেকে তাদের সুরক্ষার জন্য একাধিক পদক্ষেপ নিল চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। এনক্লোজারে দেওয়া হয়েছে খড়ের ছাউনি। গুড়জল দেওয়া হচ্ছে নীলগাই, হরিণের পালকে। চিতাবাঘ ও ভাল্লুক খাচ্ছে ওআরএস। টিয়া, ম্যাকাও সহ অন্যান্য প্রজাতির পাখিদের আহারের তালিকায়ে রাখা হয়েছে তরমুজ, শশা সহ প্রভৃতি।
ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, ‘গরমের কথা মাথায় রেখে জুলজিক্যাল পার্কে থাকা পুশু-পাখিদের জন্য একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনও পশুপাখি অসুস্থ হয়ে পড়ছে কি না, সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।’ ঝাড়গ্রামে ফাল্গুন মাস থেকেই উষ্ণতার পারদ চড়ছিল। চৈত্রের শুরুতেই জেলায় গ্ৰীষ্মের আবহ তৈরি হয়েছে। তীব্র গরমের জেরে সাধারণ মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা। ঝাড়গ্রামের জুলজিক্যাল পার্কের পশু-পাখিরা এনক্লোজারের ভিতর ছায়া খুঁজছে। নীলগাই, হরিণের পালকে গাছের ছায়ায় বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে। তীব্র গরমে পশু পাখিদের অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে এনক্লোজারের ওপর খড়ের ছাউনি দেওয়া হয়েছে। গুড়জল, ওআরএস, তরমুজ, শশার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পশুপাখিদের ওপর সর্বক্ষণ নজর চালানো হচ্ছে।
জঙ্গলের মধ্যেই গড়ে উঠেছে জুলজিক্যাল পার্ক। পার্কের ভিতর বড় বড় শাল গাছ রয়েছে। তা সত্ত্বেও গরমের হাত থেকে রেহাই মিলছে না প্রাণীদের। উত্তরবঙ্গের জলদাপাড়া অভয়ারণ্য থেকে কিছুদিন আগে একটি পুরুষ চিতা বাঘ আনা হয়েছে। বাঁকুড়া থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ভাল্লুক সম্প্রতি চিড়িয়াখানায় এসেছে। চিড়িয়াখানায় এখন ১৬টি আলাদা প্রজাতির ১৮৭টি স্তন্যপায়ী, ১২টি আলাদা প্রজাতির ১৫৩টি সরিসৃপ, ১৮টি আলাদা প্রজাতির ৭৪টি পাখি রয়েছে। পাখিদের মধ্যে রেড মুনিয়া, গোল্ডেন ওরিওলে, গ্রিনব্যী-ইটার, ক্রোফেজেন্ট, পারপেলও নাইট হেরন সহ নানা প্রজাতির পাখি রয়েছে। সরীসৃপদের মধ্যে রয়েছে ইন্ডিয়ান পাইথন, কোবরা, বাফস্ট্রাই পডকিল ব্যাক, গেকো। স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে ইন্ডিয়ান সিভেট, হায়েনা, জ্যাকেল, ফিশিংক্যাট, জাঙ্গলক্যাট, রেসাসম্যাকাও, ফক্স, পর্কুপাইন, ল্যাঙ্গুর, নীলগাই, স্পটেডডিয়ার,বার্কিং ডিয়ার রয়েছে। বনবিভাগের তরফ থেকে চিড়িয়াখানায় থাকা পশু-পাখিদের গরমের হাত থেকে বাঁচতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঋতু পরিবর্তনের সময় এমনিতেই পশু পাখিদের আচরণে পরিবর্তন আসে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে পদক্ষেপ করেছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।
ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের প্রাক্তন কর্তা সমীর মজুমদার বলেন, ‘ঝাড়গ্রামে গরমের মাত্রা বরাবর বেশি। জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তনের প্রভাব এখানেও পড়ছে। বনের পশু পাখিরা উষ্ণতার মধ্যেও নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারে। যেমন হাতির বড় কানের ত্বকের ঠিক নীচে কৈশিকগুলির একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক থাকে। যখন ঝাপটায় তখন রক্তনালীগুলির উপর দিয়ে বাতাস প্রবাহিত করে রক্তকে ঠান্ডা করে দেয়। পাখিরা তাপ নিয়ন্ত্রণে ডানা ও দেহকে ব্যবহার করে। গরমের সময় পশুপাখিদের অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এইসময় বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। সেটা চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত দায়িত্ব সহকারে করছে।’