নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: বাঙালির প্রিয় বইমেলায় ‘সংঘাত’! সরকারিভাবে আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার আয়োজনের দায়িত্ব গিল্ডকে দেওয়া হলেও সহযোগিতায় রাখা হয়েছে ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট এবং ইজেডসিসিকে। পরামর্শ ও উপদেশ দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে ২৪ জনের উপদেষ্টা কমিটি। গিল্ডের সঙ্গে ওই উপদেষ্টা কমিটির ‘ঠান্ডা লড়াই’ চলছিলই। এবার স্টল বণ্টন নিয়ে সংঘাত চরমে পৌঁছল। গিল্ডের বিজ্ঞাপন নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করল উপদেষ্টা কমিটি! সেইসঙ্গে বইমেলার থিমও ঘোষণা করে দিল তারা! ১৯৭৬ সাল থেকে বইমেলার আয়োজন নিয়ে অতীতে এমন সংঘাত দেখেনি কলকাতা।
১৯৭৫ সালে গিল্ডের প্রতিষ্ঠা হয়। পরের বছর ৫ মার্চ কলকাতা বইমেলার সূচনা। এবার আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার ৫০ বছর। পালাবদলের পর বইমেলার কী হবে, কার হাতে দায়িত্ব থাকবে, এ নিয়ে বিস্তর গুঞ্জন চলছিল। গত ২১ আগস্ট নবান্নে বৈঠক করে তার মিনিটসও প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত।
কেন সংঘাত? সম্প্রতি, বইমেলায় অংশগ্রহণ এবং স্টলের জন্য প্রতিবারের মতো গিল্ড একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ইতিমধ্যে অনেকে আবেদনও করেছেন। আবার বইমেলা নিয়েই সোমবার সল্টলেকে সাংবাদিক সম্মেলন করেন উপদেষ্টা কমিটির আহ্বায়ক। ছিলেন কমিটির আরও দুই সদস্য। আহ্বায়ক জানিয়েছেন, বিজ্ঞাপন নিয়ে তাঁদের সঙ্গে গিল্ড আলোচনা করেনি। অনুমোদনও নেয়নি। এ নিয়ে ৫ সেপ্টেম্বর বৈঠক হয়েছে। উপদেষ্টা কমিটিতে গিল্ডের যে ৪ সদস্য আছেন, তাঁরাও ছিলেন। বিজ্ঞাপনটি ত্রুটিপূর্ণ। এনবিটির পাশে কমা দিয়ে ইন্ডিয়া লিখেছে। ইন্ডিয়া একটি জোট আছে। এই বিজ্ঞাপনটি ইন-অপারেটিভ। ‘উইথড্র’ করতে বলা হয়েছে। গিল্ডের তরফ থেকে হয়তো ভুল বোঝাবুঝি থেকেই হয়েছে। তিনি আরও জানান, এবার স্টল বিলির ক্ষেত্রে এনবিটি অটোমেশন পদ্ধতি ব্যবহার করবে। তাই সমস্ত প্রকাশকদের কাছে বলতে চাই, গিল্ডের বিজ্ঞাপন দেখে আবেদনপত্র দিয়েও থাকলেও তাঁদের ফের অটোমেশনের মাধ্যমে আবেদনে জমা দিতে হবে। এর পালটা বলেছেন কিন্তু পাবলিসার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় এবং সভাপতি সুধাংশু শেখর দে’ও। তাঁরা সাফ বলেছেন, ‘রাজ্য সরকারের গাইড লাইন মেনেই আমরা কাজ করছি’।
গিল্ডের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে বলেও এদিন জানিয়েছেন আহ্বায়ক। বিশেষ করে গত ১৫ বছরে। তাঁর দাবি, সেখানে জাতীয়বাদী বই প্রকাশ করলে জায়গা দেওয়া হত না। মাঝখানে জাগো বাংলার বিশাল স্টলের জায়গা কমবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বইমেলার পৃথক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। সেইসঙ্গে আরও একটি সাব-কমিটি করা হয়েছে। এদিন বইমেলার মূল থিমও ঘোষণা করেন তিনি। বলেন, ৫ তারিখ সকলে মিলেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। বন্দে মাতরম মূল থিম। সেইসঙ্গে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১৫০ বছর, অল ইন্ডিয়া রেডিয়োর ১০০ বছর, বইমেলার ৫০ বছর প্রভৃতি বিষয়গুলিও থাকবে। থিম কান্ট্রি হিসাবে এবার ইজরায়েলকে আনা যায় কি না, সেই আলোচনা চলছে।