Bartaman Logo
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

অসুস্থ বাবার ফোনেই উদ্দীপ্ত বিলাল

বুকে বারুদ নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন ইস্ট বেঙ্গলের ফুটবলাররা। অভিজ্ঞতা নয়, লড়াই-ই তাঁদের মূলধন।

অসুস্থ বাবার ফোনেই উদ্দীপ্ত বিলাল
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: বুকে বারুদ নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন ইস্ট বেঙ্গলের ফুটবলাররা। অভিজ্ঞতা নয়, লড়াই-ই তাঁদের মূলধন। উলটোদিকের নামগুলি মনে আছে? মনবীর, সাহাল, আপুইয়া, শুভাশিস, মেহতাব, রাহুল ভেকে, কিয়ান নাসিরি। লড়াইটা ঠিক যেন ডেভিড বনাম গোলিয়াথের। আর হিব্রু বাইবেলের সেই রূপকথার মতোই ‘গোলিয়াথ’ মোহন বাগানকে টেক্কা দিল লাল-হলদু জার্সিধারী ‘ডেভিড’রা! এই ম্যাচে আবার প্রমাণ হল, হারার আগে হারতে জানে না ইস্ট বেঙ্গল। কোচ অর্চিস্মান বিশ্বাস অবশ্য বিনয়ী সুরে বললেন, ‘ড্র তো ড্র’ই হয়। বরং জয় হাতছাড়া হওয়ায় আপশোস হচ্ছে। তবে ছেলেদের জন্য কোনো প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। খাঁটি কথা বলেছেন তিনি। ওয়ান ইজ টু ওয়ান পজিশনে বিজয়ের মিস, জয় বাজের হেড বারে প্রতিহত না হলে বারসতে রূপকথা লিখে বাড়ি ফিরত মশাল বাহিনী। তবে এদিনের ম্যাচের পর একটা ব্যাপার অন্তত দিনের আলোর মতো পরিষ্কার— আইএসএলের হাইপ করা প্লেয়ারদের সঙ্গে বাঙালি ফুটবলারদের মানের তেমন কিছু পার্থক্য নেই! লাল-হলুদ শীর্ষ কর্তা দেবব্রত সরকারের মন্তব্য, ‘ফুটবলাররা দুরন্ত লড়াই করেছে। অনেকদূর যাওয়া বাকি। তবে অন্যকে ছোটো করে নিজে বড়ো হওয়া যায় না। আর চিরকাল কারও সমান যায় না।’ এদিকে, ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ জানালেন এসিএল টু’য়ে ১৩ অক্টোবর কলকাতাতেই খেলবে ইস্ট বেঙ্গল। এর আগে ম্যাচ আয়োজনে পুলিশি অনুমতি পেতে সমস্যা দেখা দিয়েছিল।

Advertisement

এদিন প্রথমার্ধে মনবীরের গোলে মোহন বাগান এগিয়ে যাওয়ার পরও হাল ছাড়েনি লাল-হলুদের ছোটোরা। দ্বিতীয়ার্ধে রীতিমতো দাপট দেখালেন বিজয় মুর্মু, আকাশ হেমব্রমরা। এই পর্বে সাহাল, মেহতাবদের স্রেফ ময়দানের তৃতীয় অথবা চতুর্থ ডিভিশনে খেলা ফুটবলার মনে হচ্ছিল। অহরহ আক্রমণের পর ৬৫ মিনিটে বিলালের হেডে সমতাসূচক গোল! ম্যাচের পর সুপার-সাবের মন্তব্য, ‘বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ। দু’দিন আগে হাসপাতালে ভরতি করতে হয়। ম্যাচের আগে বাবার ফোন আমায় তাতিয়ে দিয়েছিল। কেরিয়ারের প্রথম ডার্বিতে গোল পেয়ে আপ্লুত। জেসিনও বলেছিল, এই ম্যাচে গোল করলে নায়ক হয়ে যাব।’
অন্যদিকে, টিম বাসে ওঠার সময় সমর্থকদের রোষানলের মুখে পড়তে হল শুভাশিসদের। অধিনায়ককে ‘জেঠু’ বলেও বিদ্রুপ করেন অনেকে। আসলে ডুরান্ড ফাইনালের হারের বদলা নেবে প্রিয় ক্লাব, সেই আশাতে মাঠ ভরিয়েছিলেন অনুরাগীরা। কিন্তু  জুনিয়রদের পেয়েও হারাতে ব্যর্থ আইএসএলের তারকারা। এ তো লজ্জা! আর কবে টনক নড়বে কোচের? কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, শক্ত খুঁটির জোরে চেয়ার ‘আলো’ করে রেখেছেন বাস্তব রায়। কিন্তু বাস্তব হল, তাঁকে রাখলে পালতোলা নৌকা ক্রমশই ব্যর্থতার সমুদ্রে ডুবে যাবে। সাংবাদিক সম্মেলনে ব্যর্থতা স্বীকার করে নিলেন বাস্তব। তাঁর বক্তব্য, ‘আমরা সেরাটা মেলে ধরতে পারিনি। ইস্ট বেঙ্গলের ছেলেরা দারুণ খেলেছে। ওদের কৃতিত্ব প্রাপ্য।’ প্রতিপক্ষ দলকে যতই কৃতিত্ব দেন না কেন, নিজেদের ফুটবলারদের ব্যর্থতা আড়াল করার জায়গায় তিনি নেই। এই ডার্বি ফের প্রমাণ করল, শুভাশিসকে এবার বিদায় জানানোর সময় এসেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ