Bartaman Logo
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

লড়াকু ইস্ট বেঙ্গলের কাছে থামল পালতোলা নৌকা, নাক ভাঙায় হাসপাতালে ভরতি মনোতোষ

বদলা চাই। ঘরোয়া লিগের ডার্বির আগে এটাই স্লোগান ছিল মোহন বাগানের। আসলে ডুরান্ড ফাইনালে ১-৪ গোলে হার এখনও দগদগে।

লড়াকু ইস্ট বেঙ্গলের কাছে থামল পালতোলা নৌকা, নাক ভাঙায় হাসপাতালে ভরতি মনোতোষ
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ইস্ট বেঙ্গল-১           :        মোহন বাগান-১

Advertisement

অম্বরীশ চট্টোপাধ্যায়, বারাসত: বদলা চাই। ঘরোয়া লিগের ডার্বির আগে এটাই স্লোগান ছিল মোহন বাগানের। আসলে ডুরান্ড ফাইনালে ১-৪ গোলে হার এখনও দগদগে। তাই লিগে সুপার সিক্সে পৌঁছে গেলেও মনবীর, সাহালদের খেলাতে দ্বিধা করেনি টিম ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু বদলা কোথায়? ভেজা মুড়ির মতো মিইয়ে রইলেন কোটি টাকার তারকারা। বারাসতে দ্বিতীয়ার্ধে ইস্ট বেঙ্গলের আগুনে ম্রিয়মান গঙ্গাপাড়ের ক্লাব। ১-১ গোলে ম্যাচ ড্র। পিছিয়ে পড়েও দুরন্ত প্রতাবর্তন ইস্ট বেঙ্গলের। বলা ভালো, নৈতিক জয় তাদেরই। জয় বাজের হেড ক্রসবারে না লাগলে আরও দুর্ভোগ ছিল বাস্তবের কপালে। মোহন বাগানে কান পাতলেই শোনা যায়, বছর বছর কোচ বদলায়। কিন্তু সহকারী বাস্তবের সিট কনফার্ম। তাঁর সাফল্যের ভাঁড়ার শূন্য। তবু কোন জাদুবলে চাকরি বজায় রেখে চলেছেন? কর্পোরেট ম্যানেজমেন্টের বোঝা দরকার, ফুটবলটা নামে হয় না। খেলতে হয় মাঠে। সমর্থকদের পালসটাই বোঝেন না আপুইয়ারা। দোষ তাঁদের নয়। প্র্যাকটিস ক্লোজড ডোর। চারদিকে বাউন্সারের পাহারা। কিন্তু এই ফুটবল খেলার জন্য অনুশীলনেরই দরকার নেই। আসলে ময়দানের গন্ধ নিতেই ভুলে গিয়েছেন কাগুজে বাঘরা। বরং বারাসতে অঙ্কন ভট্টাচার্য, মনোতোষ চাকলাদার, বিক্রম প্রধানরাই বাংলা ফুটবলের ব্র্যান্ড বিজ্ঞাপন। ২৭ পয়েন্ট নিয়ে গোল পার্থক্যে ভবানীপুরকে টপকে গ্রুপ শীর্ষে ইস্ট বেঙ্গল। ২৩ পয়েন্ট নিয়ে মোহন বাগান রইল তৃতীয় স্থানে। 
ম্যাচের আগে প্রবল বৃষ্টিতে টাচলাইনের দিকে কিছুটা জল জমে যায়। তবু উন্মাদনায় কমতি ছিল না। জানাই ছিল, ইস্ট বেঙ্গল কোনও সিনিয়র ফুটবলারকে খেলাবে না। অন্যদিকে, মোহন বাগানে প্রথম এগারোয় সাত সিনিয়র। বৃষ্টিভেজা মাঠে মাটিতে বল রেখে খেলা কঠিন।  সাহাল, মনবীর, কিয়ানরা এই পর্বে আক্রমণের চাপ তৈরি চেষ্টা করলেও লাল-হলুদ দুর্গ ছিল অটুট। কাউন্টার অ্যাটাকে মশাল বাহিনীও লিড নেওয়ার চেষ্টা করে। এক্ষেত্রে ইস্ট বেঙ্গলের তন্ময় দাসকে মাঝমাঠে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা গেল। বিজয় মুর্মুর ফ্রি-কিকও পোস্টের সামান্য উপর দিয়ে বাইরে যায়। ৩৮ মিনিটে মোহন বাগনের হয়ে ডেডলক খুললেন মনবীর। সেন্টার সার্কেল থেকে পাঞ্জাবি স্ট্রাইকারকে লক্ষ্য করে বল লব করেন আপুইয়া। বাঁ পায়ে জাল কাঁপান মনবীর (১-০)। পরপর দুটো ডার্বিতেই লক্ষ্যভেদ তাঁর। এই গোলের ক্ষেত্রে দায় এড়াতে পারেন না লাল-হলুদ গোলরক্ষক গৌরব সাউ। বিরতির পর অন্য ইস্ট বেঙ্গল। জয় বাজ, আকাশ, বিজয়রা খোলস ছাড়তেই চাপে পড়ল মোহন বাগান। বিজয় মুর্মু ছ’গজ থেকে বাইরে মারলেন। এরপর জয় বাজের হেড লাগে বারে। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের মতো কাঁপলেন মেহতাব, শুভাশিসরা। এই পর্বে নাকে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন মনোতোষ। তাঁকে হাসপাতালে ভরতি করতে হয়েছে। তাঁর জায়গায় মাঠে নামেন বিলাল। ৬৫ মিনিটে বিজয় মুর্মুর কর্নার থেকে দুরন্ত হেডে ইস্ট বেঙ্গলকে সমতায় ফেরান এই সুপার-সাব (১-১)। মেহতাব তখন দর্শক। ৮৪ মিনিটে দুরন্ত সেভ করে আগের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করলেন গৌরব।
ইস্ট বেঙ্গল: গৌরব, জয়, অঙ্কন, চাকু, বিক্রম (সুমন), মনোতোষ, উত্তম (অনন্থু), মনোতোষ (বিলাল), তন্ময়, বিজয়, আকাশ।
মোহন বাগান: দীপ্রভাত, রাজ, রাহুল, মেহতাব, শুভাশিস, সায়ন (সুহেল), সাহাল, তন্ময় (সন্দীপ), আপুইয়া, কিয়ান, মনবীর।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ