নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: নিষিদ্ধ প্লাস্টিক নিয়ে রাজ্যস্তরে নানা উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু হুগলির গ্রামীণ এলাকায় প্লাস্টিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। অভিযোগ, গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে নিষিদ্ধ প্লাস্টিক প্রক্রিয়াকরণের প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন করা হলেও তার যথাযথ বিকল্প ব্যবহার হচ্ছে না। অনেকে গ্রাম পঞ্চায়েতে চূর্ণ করা প্লাস্টিক বর্জ্য মজুত হতে হতে পাহাড় জমে যাচ্ছে। হুগলির অধিকাংশ পঞ্চায়েতেই ওই ঘটনার জেরে ভিন্ন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পঞ্চায়েতগুলিতে বর্জ্য মজুত করে রাখার জায়গার অভাব তৈরি হয়েছে। পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বিষয়টি মূলত জেলা পরিষদের তদারক করার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না। সেই কারণেই প্লাস্টিক বর্জ্য জমছে।
এনিয়ে হুগলি জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধাড়া বলেন, যদি কোনো সমস্যা হয়ে থাকে, তবে তা মিটিয়ে ফেলা হবে। তবে বিষয়টি আমার জানা নেই। এবিষয়ে খোঁজ নিয়ে তারপরে পদক্ষেপ করব। হুগলির মগরা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রঘুনাথ ভৌমিক বলেন, যে পরিমাণ প্লাস্টিক আমরা সংগ্রহ করি এবং তার প্রাথমিক প্রক্রিয়াকরণ করি, সেই পরিমাণ বর্জ্য জেলা পরিষদ নিচ্ছে না। ফলে, আমাদের কাছে বর্জ্য মজুত হয়ে থাকছে, সমস্যাও কমছে না। জেলার আরও একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতে ওই একই সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে রাজ্যে পালাবদলের পরে অনেকে প্রধান, উপপ্রধানই ওই বিষয়ে প্রকাশ্যে বিবৃতি দিতে চাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলাগড়ের এক পঞ্চায়েত কর্তা বলেন, ৮ কেজি বর্জ্য মজুত হলে ১ কেজি নেওয়া হয়। তাও প্রায় আট মাস আগে শেষবার নেওয়া হয়েছিল। মূলত, রাস্তা তৈরির কাজে ওই প্লাস্টিক ব্যবহারের কথা থাকলেও তা পুরোপুরি কাজে লাগানো হচ্ছে না। সেই কারণেই বর্জ্য মজুত হয়ে থাকছে। তা স্থানীয় স্তরে সমস্যা তৈরি করছে।
হুগলি জেলাতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে কাজ আগেই শুরু হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, তার মজবুত পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি। ওই প্রক্রিয়াতেই পঞ্চায়েতভিত্তিক একটি করে প্লাস্টিক প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র তৈরির কথা থাকলেও সর্বত্র তা গড়া যায়নি। তবে ব্লক পিছু একটি বা একাধিক ওই রকমের কেন্দ্র আছে। সেখানে প্লাস্টিককে টুকরো করা হয়। তারপরে তা জেলা পরিষদকে দিয়ে দেওয়া হয়। সেসব রাস্তা তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু অভিযোগ, গত ছয়-আট মাস ধরে সেই প্রক্রিয়া কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে, পঞ্চায়েতে পঞ্চায়েতে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য মজুত হয়ে থাকছে। কোথাও কোথাও টুকরো করা প্লাস্টিক মজুত করে রাখার জায়গার অভাবের কারণে তা ডাম্পিং গ্রাউন্ডেই রেখে দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্লাস্টিক বর্জ্য-ব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র জটিলতা তৈরি হয়েছে।