নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চলতি অর্থবর্ষে নানা জটিলতায় এমনিতেই কলকাতা পুরসভার রাজস্ব ঘাটতি চলছে। তার উপর সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাজ্যজুড়ে সরকারি সার্ভারে সাইবার হানার ফলে এখনও পুরসভার অনলাইন ব্যবস্থা কার্যত ঘেঁটে রয়েছে। তাই গত ২৫ দিন ধরে পুরসভার সম্পত্তি কর বিভাগের কোনো রাজস্ব আদায় সম্ভব হচ্ছে না। অনলাইনে তো বটেই, পুরসভার অফিসে এসেও ট্যাক্স জমা করতে না পেরে ফিরতে হচ্ছে সম্পত্তি করদাতাদের। পুরসভা সূত্রে খবর, পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে গত বছরের তুলনায় চলতি অর্থবর্ষে এখনও পর্যন্ত শুধু সম্পত্তি কর খাতেই পুরসভার রাজস্ব ঘাটতি অন্তত ৬০-৬৫ কোটি টাকা। এর সঙ্গে বিল্ডিং, জঞ্জাল সাফাই, পাকিং, লাইসেন্সসহ পুরসভার বিবিধ ক্ষেত্রে আয়ের ঘাটতি যোগ করলে এই অঙ্ক কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে বলে মনে করছেন পুরকর্তারা।
গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্য সরকারি সার্ভারে সাইবার হানা চলে বলে জানা গিয়েছে। যে কারণে রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কলকাতা পুরসভার সার্ভারও। গোটা অনলাইন ব্যবস্থা অকেজো হয়ে পড়ে। সেই থেকে সিস্টেম স্বাভাবিক করতে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে খেটে চলেছে পুরসভার আইটি বিভাগ। বর্তমান পরিস্থিতিতে লাইসেন্সসহ কয়েকটি বিভাগে অনলাইন ব্যবস্থা পুনরায় কার্যকর করা গেলেও সম্পত্তি কর মূল্যায়ন ও রাজস্ব আদায় বিভাগের সিস্টেম পুরো বিগড়ে রয়েছে। অনলাইনে ট্যাক্স জমা করতে পারছেন না নাগরিকরা। পুরকর্তারা জানাচ্ছেন, পুরসভার অফিসে এসেও করদাতারা টাকা জমা করতে পারছেন না। কারণ, টাকা জমা নেওয়া থেকে শুরু করে তা নথিভুক্ত করা, পেমেন্টের বিল জেনারেট হওয়া—সবটাই হয় অনলাইনে। অফলাইনে করার কোনো সুযোগ নেই। তাই ট্যাক্স কালেকশন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা পুরসভার অন্দরে। এমনিতেই মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং কমিটির বৈঠক বন্ধ থাকায় নতুন কোনো বড় নির্মাণের অনুমোদন মিলছে না। ফলে বিল্ডিংয়ের নকশা অনুমোদনের ফি বাবদ যে আয় পুরসভার হয়, তাও ধাক্কা খেয়েছে। শুধু বিল্ডিং থেকেই অন্তত ৫০ কোটি টাকার আয় ঘাটতি চলছে পুরসভার। অর্থবিভাগের কর্তারা জানাচ্ছেন, চলতি মাসে দু’বার বেতন দিতে হবে কর্মীদের। স্থায়ী কর্মীদের বেতন, পেনশন, ভাতা, বোনাস দিতে হবে। রয়েছে অস্থায়ী কর্মীদের বেতনের ভারও। সবকিছু মিলিয়ে ২২০ থেকে ২৩০ কোটি টাকার ধাক্কা পুরসভার! এক মাসের মধ্যে এত বিপুল অর্থ দিতে রীতিমতো হিমশিম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একদিকে আয় বন্ধ, অন্যদিকে খরচ বেড়েই চলেছে। সব মিলিয়ে দুশ্চিন্তায় ঘুম উড়েছে পুরকর্তাদের।