সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের হেমরাজ ব্লাড ব্যাঙ্কে তীব্র রক্ত সঙ্কট দেখা দিয়েছে। গরমের শুরুতেই রক্ত সঙ্কটের এমন অবস্থাকে ঘিরে চিন্তায় পড়েছেন রোগীর পরিবারের সদস্যরা। দু’সপ্তাহ ধরে সঙ্কট মিটছে না। রক্তের আকাল দেখা দিয়েছে। সেই সুযোগে কালোবাজারি বেড়েছে বলে অভিযোগ। অনেকেই রক্ত না পেয়েও ফিরে যাচ্ছেন। রক্তের সঙ্কট মেটাতে সর্বস্তরে চিঠি দিয়ে সুরাহার পথ খুঁজছেন সুপার।
কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার বিপ্লব মণ্ডল বলেন, রক্ত না পেয়ে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন।দু’সপ্তাহ ধরে ব্লাড ব্যাঙ্কে এক ফোঁটা রক্ত মজুত নেই। তাই আমি শহরের বিভিন্ন ক্লাব, প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিকে রক্তদান শিবির করার জন্য চিঠি দিয়েছি।এতে রক্তের সঙ্কট কিছুটা মিটতে পারে। জানা গিয়েছে, তীব্র গরমে রক্তদান শিবির ঠিকমতো হচ্ছে না। কাটোয়ামহকুমাহাসপাতালেরক্তের ভাণ্ডার শূন্য।এদিকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে প্রতিদিন প্রচুর রোগীর চাপ থাকে। তাতে দৈনিক গড়ে ৩০ থেকে ৪০ বোতলের বেশি রক্তের প্রয়োজন হয়। কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে গড়ে মাসে প্রায় দুশো জনের বেশি থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুকে রক্ত দিতে হয়। ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্ত না থাকায় রক্ত জোগাড় করতে নাজেহাল অবস্থা হচ্ছে রোগীর পরিবারের। রোগীদের বলা হচ্ছে রক্তদাতা খুঁজে আনতে। অনেকেই আবার কালোবাজারির খপ্পরে পড়ছেন বলে অভিযোগ। এই সুযোগে চড়া দামে বেশ কয়েকজন দালাল রক্ত বিক্রিও করছে বলে অভিযোগ। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের জন্য রক্ত জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের পরিবারকে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সালারের বাসিন্দা আশরাফুল খাতুন, নদীয়া জেলার বল্লভপাড়ার বাসিন্দা নিতাই সর্দার বলেন, আমাদের রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাঁদের রক্তের প্রয়োজন। ব্লাড ব্যাঙ্কে আমাদের বলা হয়েছিল রক্ত নেই। শেষে রক্তাদাতা খুঁজে পেয়ে আবার রক্ত দেওয়া হয়। কয়েকদিন আগে কাটোয়ার কড়ুই গ্রামে পলাশ মণ্ডলের স্ত্রী লক্ষ্মী মণ্ডল রক্তাল্পতা রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি ছিলেন। তাঁর শরীরে হিমোগ্লোবিন নেমে ৪ হয়ে গিয়েছিল৷ তাঁকে চিকিৎসক এ নেগেটিভ গ্রুপের ৩ বোতল রক্ত জোগাড় করতে পরামর্শ দেন। পলাশবাবু বলেন,রক্তদাতা খুঁজে কালনা শহর থেকে রক্ত আনতে হয়েছিল। তাও আবার মাত্র দু’ বোতল জোগাড় করতে পেরেছিলাম।
মুর্শিদাবাদের টিঁয়া এলাকার বাসিন্দা পারমিতা মাঝি বলেন, আমার ছেলের থ্যালাসেমিয়ার জন্য রক্তের দরকার ছিল। তীব্র দাবদাহ ও রমজান মাসে রক্তদান শিবির করতে এগিয়ে আসছেন না অনেকেই। সেইখানে দাঁড়িয়ে রক্তদান শিবির এবং জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা জোগাড় করতে কালঘাম ছুটে যাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিরও।
পূর্ব বর্ধমান জেলা ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স ফোরামের সহ সম্পাদক জয়দেব দত্ত বলেন, হেমরাজ ব্লাড ব্যাঙ্ক বর্তমানে রক্তশূন্য। আমরাও চেষ্টা করছি যাতে করে রক্তদান শিবির তড়িঘড়ি করা যায়।