নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঘটনা ১। পাঁচ বছরের শিশু। ভরতি এনআরএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। রক্তের দুরারোগ্য অসুখে আক্রান্ত সে। চিকিৎসক বলে দিয়েছেন, এ মেয়েকে বাঁচাতে প্লেটলেট লাগবেই। বাড়ির লোকজন হন্যে হয়ে ঘুরছেন শহরের এক ব্লাড ব্যাংক থেকে অন্য ব্লাড ব্যাংকে। কোথাও না পেয়ে শেষে চড়া দামে শহরের দুটি প্রাইভেট ব্লাড ব্যাংক থেকে কিনতে বাধ্য হলেন।
ঘটনা ২। অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত ৪৫ বছরের মহিলা সাড়ে তিনমাস ধরে ভরতি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বাড়ি মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর। দরকার ও পজিটিভ রক্ত এবং প্লেটলেট। তাঁর স্বামী জানালেন, শেষ ১৫ দিন রক্ত নিয়ে নাকালের একশেষ হতে হয়েছে। রক্ত ও প্লেটলেট জোগাড় করতে গিয়ে শনিবার তিনি প্রথমে গেলেন মেডিকেলের ব্লাড ব্যাংকে। সেখানে নেই। তারপর আরজি কর এবং সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংক। কোথাও মেলেনি। শেষে বেলেঘাটার একটি প্রাইভেট ব্লাড ব্যাংক থেকে ১৪০০ টাকা ইউনিট পিছু ৩ ইউনিট রক্ত এবং ৬৫০ টাকা দিয়ে ১ ইউনিট প্লেটলেট কিনলেন।
উদাহরণ এমন শয়ে শয়ে নয়, হাজার হাজার রয়েছে। কারণ? এসআরআই ও বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য রাজনৈতিক দলগুলির ব্যস্ততায় শিকেয় উঠেছে রাজ্যে রক্ত সংগ্রহ। রক্তদান শিবিারগুলি মাছি তাড়াচ্ছে। অধিকাংশ জায়গায় রক্ত সংগ্রহ হচ্ছে ৫০ এর নীচে। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সংগঠনকে চিঠি লিখে শিবির করতে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানালেন সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংকের ডিরেক্টর। ১৮ ফেব্রুয়ারি পাঠানো এমনই এক চিঠিতে এশিয়ার প্রাচীনতম এই ব্লাড ব্যাংকের শীর্ষকর্তা গ্রীষ্মকালীন তীব্র রক্তসংকটের আশঙ্কার কথা জানিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ১৮-৬০ বছর বয়সি সুস্থ রক্তদাতাদের স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসতে বলেছেন। কিন্তু তিনি চিঠি লিখলে কী হবে, সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংকের বিরুদ্ধেই অভিযোগ, রক্তদাতা না আনলে তারা এখন রক্তই দিতে চাইছে না।
রক্তদান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শীর্ষস্থানীয় সংগঠন ওয়েস্ট বেঙ্গল ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স ফোরামের রাজ্য সম্পাদক অপূর্ব ঘোষ বলেন, বারাসতে শিবিরের আয়োজন করে দেখলাম, রক্তদাতা এলেন ৮ জন! লক্ষ্য রেখেছিলাম কমপক্ষে ৫০ জন রক্তদাতা। আর এক স্বেচ্ছাসেবী দীপঙ্কর মিত্র বলেন, নির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়নি। তাতেই এই অবস্থা। আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হলে অবস্থা আরও সঙ্গীন হবে। অবিলম্বে রাজ্যের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। না হলে থ্যালাসেমিয়া, রক্তের ক্যানসার ও অন্যান্য অসুখ, দুর্ঘটনাগ্রস্ত ও প্রসূতিরা মারাত্মক বিপদ পড়তে পারেন।