নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সোমবার থেকে শুরু হয়েছিল সমস্যা। মঙ্গলবার সকালে তা চরম আকার নেয়। রেলের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, বুধবার সকাল থেকে সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে। আশায় বুক বেঁধেছিলেন দক্ষিণ-পূর্ব রেলের দূরপাল্লার ট্রেন ও হাওড়া-খড়্গপুর শাখার লোকালের অসংখ্য যাত্রী। কিন্তু কোথায় কী! বুধবারও দিনভর ভোগান্তি অব্যাহত রইল। কবে পরিষেবা স্বাভাবিক হবে, নির্দিষ্টভাবে বলতে পারছে না রেল। বুধবার সকাল থেকে যথারীতি ভিড় জমতে শুরু করে হাওড়া স্টেশনে। সময় যত গড়িয়েছে, ততই দীর্ঘ হয়েছে অপেক্ষার প্রহর। ট্রেন বাতিল এবং সময়সূচী পরিবর্তনের ঘোষণাই শুধু শুনে যেতে হয়েছে যাত্রীদের। দক্ষিণ ভারতে ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন অনেকে। গন্তব্যে পৌঁছনোর বিমান ভাড়া কত, সেই খোঁজখবরও করতে দেখা গেল কয়েকজনকে।
দক্ষিণ-পূর্ব রেলের সাঁতরাগাছিতে সিগন্যাল বিভ্রাটের কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে হাওড়া-খড়গপুর শাখায় ট্রেন চলাচল। দূরপাল্লার ট্রেনগুলির কোনওটি ৭-৮ ঘণ্টা, কোনওটি ১৪ ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ছে। রেল সূত্রে খবর, এদিন হাওড়া-বারবিল জনশতাব্দী এক্সপ্রেস, হাওড়া-জগদলপুর এক্সপ্রেস, হাওড়া-দীঘা এক্সপ্রেস, দীঘা-হাওড়া এক্সপ্রেস এবং হাওড়া-পুরুলিয়া এক্সপ্রেস বাতিল করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের থেকে অনেকটা দেরিতে ছেড়েছে হাওড়া-মুম্বই দুরন্ত এক্সপ্রেস, হাওড়া-বেঙ্গালুরু দুরন্ত এক্সপ্রেস, হাওড়া-পুরী বন্দেভারত এক্সপ্রেস, হাওড়া-দীঘা তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেস, হাওড়া-সেকেন্দ্রাবাদ ফলকনমা এক্সপ্রেসের মতো ট্রেনগুলি। ভ্যাপসা গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে স্টেশনের নিউ কমপ্লেক্সে অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেকে। ট্রেন কখন ছাড়বে, জানার জন্য রেলের অনুসন্ধান অফিসের সামনে সারাক্ষণ যাত্রীদের গিজগিজে ভিড় লেগেছিল। প্রতিবার ট্রেনের সময়সূচী পরিবর্তনের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করতে ভোলেনি রেল কর্তৃপক্ষ। তাতে অবশ্য যাত্রীদের ক্ষোভ খুব একটা প্রশমিত হয়নি।
চার-পাঁচজনের একটি একটি দল চিকিৎসার জন্য চেন্নাই যাবে। মঙ্গলবার রাত থেকে তাঁরা স্টেশনেই ঠায় বসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন বললেন, ‘রাত সাড়ে ১১টায় ট্রেন ছিল। সকাল থেকে বারবার শুধু ট্রেনের সময়সূচী পরিবর্তন করে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করলাম।’ ওই দলের দু’জন বিমানে চেন্নাই পৌঁছনোর জন্য খোঁজখবর নিতে শুরু করলেন। রেলকর্তাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ইন্টারলকিংয়ের কাজ শেষ হওয়ার পর ছোটখাটো সমস্যা দেখা দেয় অনেক সময়। রবিবার সাঁতরাগাছিতে সেই কাজ শেষ হয়েছে। তারপর সোমবার কিছুটা সমস্যা হতে পারে বলে ভাবা হয়েছিল। কিন্তু সিগন্যালিং সিস্টেমে এত বড় বিপর্যয় ঘটবে, ভাবতে পারেননি কেউ। যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে নিচ্ছেন তাঁরা। তবে আপাতত সঙ্কট মেটার কোনও লক্ষণ নেই। দক্ষিণ পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক ওমপ্রকাশ চরণ বলেন, ‘পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা হচ্ছে। গত দু’দিনের তুলনায় অনেকটাই সমাধান হয়েছে। দেরিতে হলেও ট্রেন চালানো হচ্ছে।’
এদিকে, দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল বা সময় পিছিয়ে দেওয়ার ফলে হাওড়া স্টেশনে অপেক্ষারত যাত্রীর চাপ যেভাবে বেড়েছে, তাতে সমস্যায় পড়ছেন নিত্যযাত্রীরা। একাধিক লোকাল ট্রেন সময়মতো না আসায় ভিড়ের চাপ নিউ কমপ্লেক্স ছাড়িয়ে স্টেশনের ওল্ড কমপ্লেক্সেও গিয়ে পড়ে। দুর্ভোগের শিকার হতে হয় অন্যান্য শাখার যাত্রীদেরও।