নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: শিক্ষাদপ্তরের গাইড লাইন মেনে না চলার অভিযোগে জলপাইগুড়ির ২৬১টি বেসরকারি স্কুলকে শোকজ করেছিলেন জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক। শোকজ লেটার হাতে পাওয়ার পর দশদিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত যে উত্তর জমা পড়েছে তার অধিকাংশ নিয়ে খুশি নন জেলা শিক্ষাদপ্তরের আধিকারিকরা। বেশিরভাগ বেসরকারি (মূলত ইংলিশ মিডিয়াম) স্কুল দায়সারা উত্তর দিয়েছে। অনেক স্কুল রিপোর্ট জমাই দিতে পারেনি। ওইসব স্কুলের ক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপ নিতে পারে রাজ্য সরকার। সেক্ষেত্রে স্কুলগুলিকে গুনতে হতে পারে মোটা টাকার জরিমানা। এনিয়ে অবশ্য শিক্ষাদপ্তরের জেলা আধিকারিকরা কিছু বলতে নারাজ।
জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক শ্যামলচন্দ্র রায় বলেন, ২৬১টি বেসরকারি স্কুলকে শোকজ করা হয়েছিল। তাঁরা যে নথিপত্র ও রিপোর্ট জমা দিয়েছেন তার স্ক্রুটিনির কাজ চলছে। সবটাই রাজ্য সরকারকে জানানো হবে। এরপর রাজ্য যে পদক্ষেপ নেবে, সেটাই হবে।
বহু বেসরকারি স্কুলে খুদে পড়ুয়াদের সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। কোনো স্কুল বাংলা শিক্ষা পোর্টালে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছে। কিন্তু সেখানে পড়ুয়ার সংখ্যা শূন্য! এসবের পর নোটিশ ধরিয়ে দশদিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট স্কুলকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হবে বলে জানানো হয়। এরপর নথিপত্র সহ রিপোর্ট জমা দিতে যত দেরি হবে, জরিমানার অংক দৈনিক ১০ হাজার টাকা করে বাড়বে বলে জানানো হয়। চিঠি হাতে পাওয়ার পর দশদিন পেরিয়ে গেলেও অনেক স্কুল এখনও প্রয়োজনীয় নথিপত্র, রিপোর্ট জমা করতে পারেনি। অনেকে শোকজের উত্তর দিলেও জমা করতে পারেননি কাগজপত্র।
শিক্ষাদপ্তরের জেলার এক আধিকারিক বলেন, অনেক বেসরকারি স্কুলের ক্ষেত্রে ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেটের নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে গিয়েছে। কোনো স্কুলে বেরনোর তেমন বিকল্প পথ নেই। কোনো স্কুলের ক্ষেত্রে ক্লাসরুম খুপড়ির শামিল। সবটাই রাজ্য সরকারকে জানানো হবে।