নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: খালের উপর তৈরি হয়ে গিয়েছে একাধিক বাড়ি। রানাঘাট শহর সংলগ্ন আনুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্রীনাথপুর অঞ্চলের চিত্রটা ঠিক এমনই। মসজিদ সংলগ্ন খালটির উপরে বছরখানেকের মধ্যে রীতিমতো কালভার্ট বানিয়ে দোতলা-তিনতলা বাড়ি তৈরি হয়ে গিয়েছে। জায়গাটি আবার রানাঘাট মহকুমা অফিস থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বেই। প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন গুরুতর বেআইনি কাজের জেরে প্রতিবছর বর্ষায় ভুগতে হচ্ছে রানাঘাট এবং কুপার্সের বাসিন্দাদের।
ফি বর্ষায় জল জমছে রানাঘাট শহরের জাতীয় সড়ক সংলগ্ন একাধিক ওয়ার্ডে। বিশেষ করে ১১ নম্বর ওয়ার্ডে। কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে, জোড়া শহর কুপার্স ও রানাঘাটের নিকাশির অন্যতম মাধ্যম হাঙর খাল বেআইনিভাবে দখল হয়ে গিয়েছে। ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষের একাংশ বলছেন, ভোট রাজনীতি বড় বালাই। তাই খালের উপর বাড়ি বানিয়ে ফেললেও প্রশাসনের মুখে কুলুপ। আর তাদের এই রহস্যজনক নীরবতার মাশুল দিচ্ছেন রানাঘাটের আমজনতা।
কুপার্স থেকে উৎপত্তি হয়ে রানাঘাট শহরের সাধুর বাগান, মিশন গেট দিয়ে ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ভবানীগড় শরৎপল্লি এলাকায় ঢুকেছে হাঙর খাল। এরপর খালটি শ্রীনাথপুর হয়ে আনুলিয়া পঞ্চায়েত এলাকায় চূর্ণী নদীতে মিশেছে। কয়েক লক্ষ মানুষের নিকাশির মূল মাধ্যম এই খাল। স্বাভাবিকভাবেই গঙ্গা অভিমুখে থাকা চূর্ণী নদীমুখী হাঙর খালের প্রবাহের কারণে এই অঞ্চল নিম্ন অববাহিকা। কিন্তু, সাধারণ মানুষের একাংশের লাগামছাড়া দখলের জেরে খালটির বহু অংশ এখন বিলুপ্তির পথে। এহেন দখল রাজত্বের সবচেয়ে করুণ ছবি দেখা গিয়েছে আনুলিয়া পঞ্চায়েতের শ্রীনাথপুর মসজিদ সংলগ্ন এলাকায়। গত কয়েক বছরে খালের উপরে পরপর তিনটি বাড়ি তৈরি হয়ে গিয়েছে। রীতিমতো কালভার্ট বানিয়ে তার উপরেই তৈরি করা হয়েছে দোতলা বাড়ি। এহেন একটি বাড়ির মালিক বাবর মণ্ডল ও মানিক মণ্ডল। তাঁদের দাবি, এই খাল দখল করে তাঁরা বাড়ি করেননি। বরং তাঁদের জায়গার উপর দিয়েই নাকি খাল গিয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই খালের উপরে বাড়ি করতে হয়েছে। তাঁরা কি আগে প্রশাসনিক অনুমতি নিয়েছেন? এই প্রশ্নের অবশ্য সঠিক উত্তর দিতে পারেননি তাঁরা। একইভাবে তারামণি বিবির বাড়ির একটি অংশও উঠে পড়েছে খালের উপর। তিনিও দাবি করেন, তাঁর চার কাঠা জায়গার উপর দিয়ে গিয়েছে খাল। উভয়ক্ষেত্রেই কয়েক বছরের মধ্যে বাড়ি তৈরি হয়েছে।



