Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শিট পাইলিংয়ের কাজে বিঘ্ন, নিকাশি বিভ্রাটে ফের জলমগ্ন বেলগাছিয়ার একাধিক এলাকা

ভূমিধসের ঘটনার পর প্রায় একমাস পেরিয়ে গেলেও নিকাশি সমস্যার সমাধান হয়নি

শিট পাইলিংয়ের কাজে বিঘ্ন, নিকাশি বিভ্রাটে ফের জলমগ্ন বেলগাছিয়ার একাধিক এলাকা
  • ১৮ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: জমা জলের ভোগান্তি যেন এখন দিনযাপনের প্রতিশব্দ হয়ে উঠেছে হাওড়ার বেলগাছিয়ার বি রোড ও সি রোডের বাসিন্দাদের কাছে। ভূমিধসের ঘটনার পর প্রায় একমাস পেরিয়ে গেলেও নিকাশি সমস্যার সমাধান হয়নি। বারবার ব্যাহত হচ্ছে শিট পাইলিংয়ের কাজ। যার জেরে ফের জলমগ্ন হয়ে পড়েছে বামনগাছি সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা। নর্দমার নোংরা জল ঘরে ঢুকে বাসিন্দাদের ভোগান্তি বাড়িয়ে তুলেছে কয়েকগুণ। 

Advertisement

গত ২০ মার্চ বেলগাছিয়া ভাগাড়ে ব্যাপক ভূমিধসের কারণে শুধু জল সরবরাহকারী মূল পাইপ লাইনই নয়, ধসে গিয়েছিল উত্তর হাওড়ার অন্যতম মূল ড্রেনেজ সিস্টেমও। পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ঘটনাস্থলে এসে শিট পাইলিং করে নতুনভাবে নিকাশির কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন কেএমডিএ-কে। সেই কাজ করতে গিয়ে বারবার বাধার মুখে পড়তে হয় সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে। এদিকে বেহাল নিকাশির কারণে উত্তর হাওড়ার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বড় অংশ রীতিমতো নোংরা জলের তলায় চলে যায়। পাম্প ব্যবহার করে বি রোড এলাকার জল নামানো গেলেও দিনের পর দিন জলযন্ত্রণা সহ্য করতে হয় সি রোডের বাসিন্দাদের। কখনও শিট পাইলিং, আবার কখনও বিকল্প উপায়ে মাইক্রো টানেল বসিয়ে নিকাশি সমস্যার সুরাহার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সব চেষ্টাই কোনও না কোনওভাবে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। গত কয়েকদিন জমা জলের ভোগান্তি সহ্য করতে না হলেও বুধবার দুপুর থেকে ফের নিকাশি নালা উপচে নোংরা জল ঘুরপথে ঢুকে পড়েছে গোটা এলাকায়। সি রোড বাজার, বালক সঙ্ঘ, বিবেকনগরের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই নর্দমার র জল ঢুকেছে। বি রোডের আমতলা মাঠ, অটো স্ট্যান্ড, কলাবাগান, হরিশ কলোনিতেও ফের জল থই থই অবস্থা।
হাওড়া পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাগাড় এলাকায় ভূমির অনমনীয়তার কারণে শিট পাইলিংয়ের কাজে সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি নিকাশির কাজের জন্য অস্থায়ীভাবে জলের প্রবাহ আটকে দেওয়া হয়েছে। সে কারণেই জলমগ্ন দশা তৈরি হয়েছে একাধিক এলাকায়। পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই ড্রেনেজের কাজ অনেকটাই মিটে যাবে। যে জায়গাগুলিতে জল জমেছে, তা দ্রুত নেমে যাবে। নতুন করে জমা জলের সমস্যা আর তৈরি হবে না।’ এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ‘গত কয়েকদিন জমা জল না থাকায় ভোগান্তি অনেকটা কমেছিল। কিন্তু আবার ঘরের ভিতরে নোংরা জল ঢুকেছে। ভয়াবহ গরমের মধ্যে প্রতি মুহূর্তে রোগ সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। জানি না কবে এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাব আমরা।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ