সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নেই নিজস্ব ভবন ও রান্নার জায়গা। ফলে কোথাও খোলা আকাশের নীচে, কোথাও আবার ক্লাব ঘরে চলছে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। ঠিকমতো হচ্ছে না পাঠদান। বন্ধ থাকছে রান্নাও। শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের হাতে শুকনো খাবার ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। করোনাকাল থেকেই এমনটা চলে আসছে রামপুরহাট শহরের একাধিক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে। অভিযোগ, সেক্ষেত্রে সরকার থেকে বরাদ্দ করা জ্বালানি, তেল, মশলা, সব্জির ভুয়ো বিল দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করে আসছেন সেই সমস্ত কেন্দ্রের কর্মীরা। গত বুধবার এই নিয়ে রামপুরহাট মহকুমা শাসকের কাছে একটি গণস্বাক্ষরিত অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রামপুরহাট শহরের ১৮টি ওয়ার্ড মিলিয়ে ৩৯টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে। যার মধ্যে ১৭টির কোনও নিজস্ব ভবন নেই। অভিযোগে মায়া মণ্ডল, চৈতালী কোনাইল, সোহম কর্মকার, সঙ্গীতা চট্টোপাধ্যায়রা জানিয়েছেন, ভাত, আলু, নানারকম সব্জি, ডিম দিয়ে রান্না করা খাবার পরিবেশনের নিয়ম থাকলেও ওই কেন্দ্রগুলিতে তা মানা হচ্ছে না। শুধুমাত্র শুকনো চাল, ডাল আর ডিম দেওয়া হচ্ছে। অথচ আলু, সব্জি, তেল, মশলা, জ্বালানির বিল দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দ অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। তাঁরা বলেন, প্রত্যন্ত গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় অনেক অসুবিধের মধ্যে কেন্দ্রগুলি চলছে। তাহলে শহরে কেন চলবে না? কেন শিশুদের রান্না করে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হবে না। অবিলম্বে সেন্টারগুলির নিজস্ব ভবনের ব্যবস্থা করতে হবে। ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের নিজস্ব ভবন তৈরি হয়ে আছে। কিন্তু চালু করা হয়নি।
অভিযোগ পেয়ে মহকুমা শাসক শুক্রবার প্রকল্প আধিকারিক সায়ন্তন মান্নাকে নিজের অফিসে ডেকে এবিষয়ে জানতে চান। পরে সংবাদ মাধ্যমে সায়ন্তনবাবু বলেন, ওই সেন্টারগুলির নিজস্ব ঘর নেই। কোথায় রান্না করবে তাই শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে। যদিও জ্বালানি ও সব্জির বিল আত্মসাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা ঠিক সব্জি ও জ্বালানি বাবদ তাঁরা বিল পাচ্ছে। বিষয়টি দেখে নিচ্ছি। পাশাপাশি তিনি বলেন, এপ্রিলের শুরুতেই ডিপার্টমেন্ট থেকে অর্ডার দেওয়া হয়েছে, যে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের নিজস্ব ভবন নেই। তাঁরা ঘর ভাড়া নিতে পারবে। ভাড়া বাবদ অর্থ দেবে সরকার। সেইমতো রুম দেখা শুরু হয়েছে। মে মাস থেকে এই সমস্যা থাকবে না। অন্যদিকে, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সেন্টার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই সেন্টারটি মেরামতের দায়িত্ব একটা ইঞ্জিনিয়ারকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চাবিটি তার কাছে থাকায় চালু করা যাচ্ছে না। জানি না আদৌ মেরামত হয়েছে কি না।
পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন ভকত বলেন, এর আগে কিছু সেন্টার তৈরি করার জন্য জায়গা দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলি যাতে নিজস্ব ভবন পায় সেই চেষ্টায় রয়েছি। মহকুমাশাসক সৌরভ পাণ্ডে বলেন, জায়গার অভাবে এই সমস্যা হয়েছে। দ্রুত মিটে যাবে। পাশাপাশি উপভোক্তাদের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।