নয়াদিল্লি: বেসরকারি ক্ষেত্রে মহাকাশ প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি বা ডিপ-টেক গবেষণাকে উৎসাহ দিতে ১ লক্ষ কোটি টাকার তহবিল (আরডিআই) গড়েছে কেন্দ্র। উদ্দেশ্য, গবেষণার স্বার্থে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে আর্থিক সাহায্য করা। ইতিমধ্যেই প্রথম পর্যায়ে ২২টি বেসরকারি সংস্থার জন্য মোট ২,১৯২ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। তবে এখানেও উঠেছে দুর্নীতির অভিযোগ। জানা যাচ্ছে, ঋণপ্রাপ্ত ১৫টি সংস্থার সঙ্গেই যোগ রয়েছে নির্বাচন কমিটির সাত সদস্যের। সেই ১৫টি কোম্পানির জন্যই মোট ১,৩৭৭ কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ হয়েছে। এবিষয়ে নিয়ে সংসদে সরব হন কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ প্রবীণ চক্রবর্তী। কংগ্রেস নেতা পবন খেরাও এক্স হ্যান্ডলে টুইট করে বিষয়টা ব্যাখ্যা করেছেন। মোদি সরকার অবশ্য নির্বিকার। গত ৩০ জুলাই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানান, নির্বাচিত সংস্থাগুলির সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক থাকার কথা আগেই প্রকাশ করেছিলেন ওই সাত সদস্য। তবে তাঁদের বিনিয়োগের ধরন বা পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। পরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তর জানায়, সমস্ত নির্বাচন শুধুমাত্র যোগ্যতার ভিত্তিতে হয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, মোট ১২৪টি সংস্থা আর্থিক সাহায্যের জন্য আবেদন করেছিল। তাদের বাছাই করার দায়িত্ব ছিল ১২ সদস্যের একটি বিনিয়োগ কমিটি তথা টেকনোলজি ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (টিডিবি) হাতে। কমিটিতে ছিলেন প্রযুক্তি জগতের ১১ জন বিশেষজ্ঞ এবং ভোটাধিকারহীন সরকারের এক প্রতিনিধি। এরাই ২২টি সংস্থাকে ঋণ প্রদানের জন্য বাছাই করে। অভিযোগ, এর মধ্যে ১৫টির সঙ্গে টিডিবির সাত সদস্যের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। তালিকায় প্রথমেই নাম রয়েছে কমিটির চেয়ারম্যান তথা ইন্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল নেটওয়ার্কের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সৌরভ শ্রীবাস্তবের। অভিযোগ, কেবল তাঁর সঙ্গেই ন’টি সংস্থার সম্পর্ক রয়েছে। এর মধ্যে পুনের নককার্ক রোবোটিক্সে ০.৭৫ শতাংশ ব্যক্তিগত শেয়ার রয়েছে সৌরভের। সংস্থাটি আরডিআই তহবিল থেকে ১১.৪১ কোটি টাকা পেয়েছে।
একইভাবে টাটা ইন্ডাস্ট্রিজের এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর তথা টিডিবির অন্যতম সদস্য কে আর এস জামওয়ালের সঙ্গে তেজস নেটওয়ার্কস, মনাস্তু স্পেস, থিঙ্কমেটাল সহ মোট সাতটি সংস্থার যোগ রয়েছে বলে দাবি। টিভিএস ক্যাপিটাল ফান্ডসের চেয়ারম্যান গোপাল শ্রীনিবাসনের সঙ্গে অগ্নিকুল কসমস, পিনাকল ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান সুধীর মেহতার সঙ্গে রিপ্লাস এনজিটেক, তেজস নেটওয়ার্কসের প্রাক্তন সিইও সঞ্জয় নায়েকের সঙ্গে তেজস নেটওয়ার্কস ও এথার এনার্জি, পার্সিস্টেন্ট সিস্টেমসের চেয়ারম্যান আনন্দ দেশপাণ্ডের সঙ্গে সেরিজেন মেডিপ্রোডাক্টস এবং টাটা স্টিলের প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট দেবাশিস ভট্টাচার্যের সঙ্গে নিওসিকার মেটালসের আর্থিক সম্পর্ক থাকার কথাও প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও অভিযুক্ত সাত সদস্যই অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, আরডিআই তহবিলের নির্দেশিকা অনুযায়ী কোনো সংস্থার সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক থাকলে, সেই সংস্থার আবেদন মূল্যায়ন ও অনুমোদনের সময় সংশ্লিষ্ট সদস্য বৈঠক থেকে সরে দাঁড়ান। সৌরভ শ্রীবাস্তবের বক্তব্য, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠিত হওয়ায় এমন পরিস্থিতি অস্বাভাবিক নয়। কংগ্রেস সাংসদ প্রবীণ চক্রবর্তীর অবশ্য বক্তব্য, তিনি কারও বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করছেন না। তাঁর উদ্বেগ সরকারি অর্থ ব্যবহারের প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা নিয়ে। তাঁর মতে, ডিপ-টেক গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তহবিল বণ্টনের কমিটিতে বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ এবং বাণিজ্যিক স্বার্থহীন বিশেষজ্ঞদের সংখ্যা বাড়ানো উচিত। আর্থিক মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনে বাইরের বিশেষজ্ঞদের মত নেওয়া যেতে পারে।