সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: কলকাতার একটি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ইন্দ্রনীল বসুর নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে চিকিৎসা করার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় চিকিৎসক ইন্দ্রনীল বসুর অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের একটি জায়গা থেকে ভুয়ো চিকিৎসক অনুপম বসুকে গ্রেপ্তার করেছে আমতার চন্দ্রপুর ফাঁড়ির পুলিস। ধৃতের বিরুদ্ধে পুলিস ৩১৯ (২)/৩১৮/৩৫১ (১) বিএনএস ধারায় মামলা রুজু করেছে। বৃহস্পতিবার উলুবেড়িয়া আদালতে তোলা হলে বিচারক ধৃতের সাতদিনের জন্য পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন। এদিকে, এদিন আদালতে যাওয়ার পথে অনুপম বসুকে এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনও উত্তর দেননি।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহারের কোতয়ালি থানার বাসিন্দা অনুপম বসু নামে ওই যুবক চিকিৎসক ইন্দ্রনীল বসুর নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গায় চেম্বার করে রুগী দেখতেন। সেই রকম আমতার ছোটপোল এলাকাতেও একটি ওষুধের দোকানের চেম্বারে বসতেন অনুপম। যদিও চেম্বারের বাইরে চিকিৎসক হিসেবে ইন্দ্রনীল বসুর নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর লেখা থাকত। কিন্তু এই বছর জানুয়ারি মাসে ইন্দ্রনীল বসুর এক বন্ধু ছোটপোল এলাকায় আসেন। ওষুধের দোকানের বাইরে তিনি ইন্দ্রনীল বসুর নাম দেখতে পান। কৌতূহলবশতঃ তিনি তাঁর বন্ধু ওই চিকিৎসককে বিষয়টি জানান। তখনই তাঁর নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভাঁড়ানোর বিষয়টি সামনে আসে। এরপরেই আসল চিকিৎসক অভিযুক্ত যুবকের নামে চন্দ্রপুর ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে পুলিসে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরেই অনুপম বসু আমতায় আসা বন্ধ করে দেন। বুধবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে চন্দ্রপুর ফাঁড়ির পুলিস বসিরহাটের একটি চেম্বারে রোগী সেজে গিয়ে অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। ধৃতের কাছ থেকে ভুয়ো নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর লেখা লেটারপ্যাডও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিস পুরো ঘটনার তদন্ত করছে। এদিকে, এদিন আদালতে আসা অভিযুক্ত যুবকের এক বন্ধু জানান, আমরা ওঁর নাম ইন্দ্রনীল বলেই জানতাম। কিন্তু ও যে ভুয়ো নাম ও রেজিস্ট্রশন নম্বর ব্যবহার করছে, এটা আমরা জানতাম না। তিনি আরও জানান, অনুপমের বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে। নিজস্ব চিত্র