Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভাসানে যাওয়ার পথে পুলিশকর্মীদের লাঠি ও বাঁশ দিয়ে মারধরের অভিযোগ, গার্ডেনরিচের ঘটনায় গ্রেফতার সাতজন

ভাসানের জন্য গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া দুর্গাপ্রতিমাকে রাস্তায় অনেকক্ষণ দাঁড় করিয়ে রেখেছিল পুজোর উদ্যোক্তারা

ভাসানে যাওয়ার পথে পুলিশকর্মীদের লাঠি ও বাঁশ দিয়ে মারধরের অভিযোগ, গার্ডেনরিচের ঘটনায় গ্রেফতার সাতজন
  • ৬ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভাসানের জন্য গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া দুর্গাপ্রতিমাকে রাস্তায় অনেকক্ষণ দাঁড় করিয়ে রেখেছিল পুজোর উদ্যোক্তারা। তাই দেখে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা উদ্যোক্তাদের বলেছিলেন, প্রতিমা সহ গাড়ি নিয়ে এগিয়ে যেতে। যেই না একথা বলা, সঙ্গে সঙ্গে ওই ক্লাবের কয়েকজন কর্মী বাঁশ, লাঠি বের করে পুলিশ কর্মীদের বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। তাদের মারে সামনের চারটি দাঁত ভেঙেছে এক কনস্টেবলের। দুই মহিলা পুলিশকর্মীর শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। শনিবার রাত ১০টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে গার্ডেনরিচ থানার পাহাড়পুর রোডে। পুলিশকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করে সাতজনকে গ্রেফতার করেছে থানা। এই ঘটনায় বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাহাড়পুর এলাকার একটি ক্লাবের দুর্গাপ্রতিমার ভাসান ছিল শনিবার। এই উপলক্ষ্যে ক্লাবের সদস্যরা বিশাল শোভাযাত্রা বের করে। গানের সঙ্গে সঙ্গে রাস্তা দখল করে চলছিল নাচ। এক একটি জায়গায় অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকছিল তারা। যে কারণে পিছনের প্রতিমা আটকে পড়ছিল। এলাকাজুড়ে যানজট তৈরি হয়েছিল। কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা ক্লাবের সদস্যদের অনুরোধ করেন সামনে দিকে এগতে। রাস্তা এতক্ষণ দখল  করে রাখা যাবে না বলেও জানান তাঁরা। একথা শোনার পরেই উত্তেজিত হয়ে ওঠে ক্লাবের সদস্যরা। অভিযোগ, জনা ২০-২৫ জন ওই পুলিশ কর্মীদের ঘিরে ধরে লরিতে থাকা বাঁশ, লাঠি দিয়ে মারধর শুরু করে। এমনকী, পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটও ছোড়ে তারা। এই ঘটনায় হতচকিত হয়ে পড়েন ওই পুলিশ কর্মীরা। তাঁরা সংখ্যায় কম থাকায় প্রথমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। এই সময় কনস্টেবল কর্ণশেখর ভৌমিকের মুখে ঘুসি মারা হয় বলে অভিযোগ। এর জেরে তাঁর সামনের চারটি দাঁত ভেঙে যায়। সেখানে ডিউটিতে থাকা এক মহিলা কনস্টেবল ও সিভিক ভলান্টিয়ারকে বেধড়ক মারধর করার পর রাস্তায় ফেলে চুলের মুঠি ধরে টানতে টানতে অনেকটা নিয়ে আসে অভিযুক্তরা। ফের তাঁদের মারধর করা হয় বলে জানা গিয়েছে।
দুই মহিলা পুলিশ কর্মীর অভিযোগ, তাঁদের শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। এই ঘটনায় আহত হন আরও চারজন পুলিশকর্মী। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে বিশাল পুলিশ বাহিনী। ঘটনাস্থল থেকে সাতজনকে আটক করা হয়। পালিয়ে যায় অন্য অভিযুক্তরা। আহত পুলিশ কর্মীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আঘাত গুরুতর হওয়ায় ওই কনস্টেবলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে গার্ডেনরিচ থানা পুলিশ কর্মীদের খুনের চেষ্টা, শ্লীলতাহানি সহ একাধিক ধারায় কেস রুজু করে সাতজনকে গ্রেফতার করেছে। রবিবার ধৃতদের আলিপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। যে বাঁশ ও লাঠি দিয়ে পুলিশকে মারা হয়েছে, সেগুলি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।   

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ