সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: প্রবল বৃষ্টিতে ধস নেমে ক্ষতিগ্রস্ত হল সেভক-রংপো রেল প্রকল্প। ৭ নম্বর টানেলের মুখের পাশে ধস প্রতিরোধ দেওয়াল মঙ্গলবার সকালে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। সেইসময় কাজ বন্ধ থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানান উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জলকিশোর শর্মা।
এই ধসের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। উদ্বিগ্ন রেল আধিকারিকরাও। এর আগেও টানেল তৈরির সময় বেশ কয়েক জায়গায় ধস নেমে শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বারবার ধসের ঘটনায় চালুর আগেই প্রকল্প নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সেভক-রংপো প্রকল্পে মোট ১৪টি টানেল, ২১টি সেতু রয়েছে। থাকছে পাঁচটি রেলস্টেশন সেভক, রিয়াং, তিস্তা, মেল্লি ও রংপো। ৭ নম্বর টানেলটি কালিম্পং জেলার রবিঝোরায় রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রবল বৃষ্টিতে সোমবার থেকেই সংশ্লিষ্ট টানেলের স্লোপ প্রোটেকশনে ফাটল দেখা দিয়েছিল। এদিন সকালে সম্পূর্ণ প্রোটেকশন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। প্রাথমিকভাবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন,মূলত পাহাড়ের কারণেই এধরনের ধস। এদিকে, খবর পেয়ে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন তাঁরা।
আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে দ্রুত মেরামতির কাজ শুরু হবে, একথা জানিয়েইরকনের প্রকল্প আধিকারিক মহেন্দ্র সিং বলেন, ধসের ঘটনা ঘটলেও টানেলের কোনও ক্ষতি হয়নি। পাহাড়ের উপর থেকে বড়ধস নেমে প্রোটেকশন ওয়ালধসে পড়েছে। দ্রুত তা মেরামত করা হবে।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক বলেন, প্রবল বৃষ্টিতে৭ নম্বর টানেলের প্রবেশপথের পাশে ধস প্রতিরোধ দেওয়াল ধসে গিয়েছে। তবে ওই সময় কাজ বন্ধ থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। দ্রুত ধস সরিয়ে আবার কাজ শুরু হবে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকার সময় এই প্রকল্প তিনি হাতে নিয়েছিলেন। শিলান্যাসও করেছিলেন। কিন্তু তিনি রেলমন্ত্রী থেকে পদত্যাগ করার পর এই প্রকল্পের কাজ থমকে গিয়েছিল। অবশেষে ২০১৮ সালে প্রকল্পের কাজ ফের শুরু হয়।এই প্রকল্পের জন্য দু’দফায় ৪৫৬২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। রেলপথে ১৩টি বড় ও ৮টি ছোট টানেল রয়েছে। প্রকল্পের জন্য মোট ১৬০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের মোট ৪৫ কিমির মধ্যে সেভক থেকে রিয়াং পর্যন্ত ১৪ কিমি পশ্চিমবঙ্গে এবং বাকি ৩১ কিমি সিকিমে পড়েছে। ২০২৭ সালে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কাজ শেষ করার টার্গেট নিয়েছে রেল।
প্রসঙ্গত,কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে একাধিকবার দুর্ঘটনার ঘটেছে। এখনও পর্যন্ত এই রেল প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে মোট ১৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।