নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘সরকার চালাতে আসিনি। সেবা করতে এসেছি। তাই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নতুন নাম সেবা তীর্থ।’ বক্তা নরেন্দ্র মোদি। ১৯৪৭ সাল থেকে দিল্লির রাইসিনা হিলসে তিনটি অট্টালিকা দেশশাসনের ক্ষমতার ভরকেন্দ্র। রাষ্ট্রপতি ভবন, নর্থ ব্লক ও সাউথ ব্লক। এর মধ্যে সাউথ ব্লকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। স্বাধীনতার পর প্রত্যেক প্রধানমন্ত্রী বসেছেন এই অফিসেই। কিন্তু ব্যতিক্রম ঘটল ২০২৬ সালে। মোদি সরকারের আমলে। তাদের ২০ হাজার কোটি টাকার সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পে লুটিয়েন্স দিল্লির ভোলবদলের পরিকল্পনার অন্যতম অঙ্গ ছিল প্রধানমন্ত্রীর নতুন দপ্তর নির্মাণ। শুক্রবার সেই নয়া দপ্তরে প্রবেশ করলেন নরেন্দ্র মোদি। বিদায় সাউথ ব্লক।
প্রধানমন্ত্রীর নয়া দপ্তরে নয়া পিএমও ‘সেবা তীর্থ’। এদিন মোদি বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নর্থ ব্লক ও সাউথ ব্লক থেকে বহু গুরুত্বপূর্ণ নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল। আবার এটাও ঠিক, এই অট্টালিকা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের তৈরি। তাদের লক্ষ্য ছিল ভারতকে দাসত্বের শৃঙ্খলায় আবদ্ধ করে রাখা। যার ভরকেন্দ্র এই অট্টালিকা। একটা সময় কলকাতা ছিল ভারতের রাজধানী। কিন্তু ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় কলকাতা হয়ে যায় ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র ও চালিকাশক্তি। সেই কারণেই ১৯১১ সালে রাজধানী স্থানান্তরিত হয়ে যায়। এরপর যখন রাইসিনা হিলস তৈরি হয়, তখন তৎকালীন ভাইসরয় বলেছিলেন, ব্রিটিশ রাজের ইচ্ছানুযায়ী এই অট্টালিকা। কিন্তু সেবা তীর্থ নির্মাণ করা হয়েছে ভারতের জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য।’ মোদির দাবি, ‘ক্ষমতায় আসার পর থেকে আমরা ঠিক এই কাজটিই করে আসছি। দাসত্ব মনোভাব থেকে ভারতকে মুক্তি দেওয়া। সেবা তীর্থ হল সেই ভবন, যা দেশকে প্রেরণা জোগাবে। কারণ, সেবাই হল সবথেকে বড় ধর্ম। আর প্রধানমন্ত্রীর ভবনের ধর্ম ও সংকল্প হল সেবা করা।’ শুক্রবার ছিল বিজয়া একাদশী। সেই মাহেন্দ্রক্ষণ টেনে মোদি বলেন, ‘বিজয়া একাদশীর দিন যাত্রা শুরু হলে মঙ্গলময় হয় সেই যাত্রা। আমি সমস্ত সরকারি আধিকারিককে বলছি, যখনই এই ভবনে প্রবেশ করবেন, একবার একটু থামবেন। নিজেকে প্রশ্ন করবেন, আজ আমি দেশের মানুষের সামান্যতম উত্তরণ ঘটাতে পারব তো?’
সেবা তীর্থে প্রবেশ করার ক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতে মোদি এদিন একঝাঁক প্রকল্পের ফাইলে স্বাক্ষর করলেন। যার অন্যতম ‘প্রধানমন্ত্রী রাহত প্রকল্প’। যে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত সহায়তা পাওয়া যাবে এই প্রকল্পে। ইতিমধ্যেই চালু রয়েছে গ্রামীণ মহিলাদের স্বনিযুক্তি প্রকল্প লাখপতি দিদি। এবার তারই দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হচ্ছে। এবার মোদি সরকারের টার্গেট, ৬ কোটি মহিলাকে লাখপতি দিদি করা। কৃষকদের উন্নতির জন্য ১ লক্ষ কোটি টাকার একটি কৃষি পরিকাঠামো তহবিল গঠন করা হয়েছে আগেই। তা বাড়িয়ে করা হচ্ছে ২ লক্ষ কোটি টাকা। আবার নতুন কোনও ব্যবসা শুরু করার জন্য সরকার থেকে আর্থিক সাহায্য পাওয়া যাবে। সেজন্য যে তহবিল গঠন করা হয়েছে, তার নাম স্টার্ট আপ ফান্ড। সেখানে রাখা থাকবে ১০ হাজার কোটি টাকা। সেবা তীর্থ থেকে নয়া ‘পরিষেবা’ মোদির। ছবি: পিটিআই