মানুষের সেবাই তাঁর মন্ত্র, ফ্রি ক্লিনিকে রোগী দেখছেন মন্ত্রী হরেকৃষ্ণ
  • ১ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ফ্রি-ক্লিনিকে রোগী দেখছেন তমলুকের বিধায়ক তথা রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হরেকৃষ্ণ বেরা। ‘সেবাই পরম ধর্ম’-মন্ত্রে দীক্ষিত হরেকৃষ্ণবাবু। সমাজের প্রতি একজন চিকিৎসকের ভূমিকা ও দায়িত্বশীলতার কথা মাথায় রেখেই তিনি এই কাজে শামিল হয়েছেন। শহরে শালগেছিয়ায় রাজ্য সড়কের ধারে নিজের চেম্বারকে বিধায়ক কার্যালয় বানিয়েছেন। নাম রেখেছেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবা কেন্দ্র। সেই সেবা কেন্দ্রে বসেই একবেলা কোনো ফি ছাড়াই রোগী দেখছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হরেকৃষ্ণবাবু। শুক্র, শনি ও রবিবার জরুরি কোনও কর্মসূচি না থাকলে এই পরিষেবা দিচ্ছেন তমলুকের বিধায়ক। ১৯৯৩থেকে ১৯৯৮সাল পর্যন্ত তমলুকের নাইকুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালের চিকিৎসক ছিলেন হরেকৃষ্ণবাবু। তারপর ২০০৮সাল পর্যন্ত তমলুক জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ছিলেন। ২০০৮সালে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। হলদিয়ার একটি প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজে অধ্যাপনার কাজে যোগ দেন। ২০০৮সাল থেকে তমলুকের শালগছিয়ায় তাঁর প্র্যাকটিস শুরু। চিকিৎসক হিসাবে তাঁর সুনাম রয়েছে। নিয়মিত চেম্বার করেন। মন্ত্রী হওয়ার পর সোম থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাঁকে বিভাগীয় দপ্তরে থাকতে বলা হয়েছে। শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত হাতে তিনদিন সময় পান। এই তিনদিন জরুরি প্রয়োজনে বাইরে না থাকলে ফ্রি-তে তিনি রোগী দেখছেন।  শনিবার চেম্বারে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ২৫জন রোগী বসে রয়েছেন। একের পর এক রোগী দেখে চলছেন রাজ্যের ওই মন্ত্রী। সঙ্গে রয়েছেন দু’জন কম্পাউন্ডার। হরেকৃষ্ণবাবু বলেন, মন্ত্রী হওয়ার কারণে কাজের ব্যস্ততা বেড়েছে। দপ্তরে সপ্তাহে চারদিন সময় দিতে হচ্ছে। তবুও আমার নিজের পেশার প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকে আমি রোগী দেখব বলে ঠিক করেছি। কোন দিন চেম্বারে বসব সেটা সেইদিন সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ ফোন করে জেনে নিতে হয়। এতে রোগীদের অসুবিধা হয়। এই অসুবিধার কথা মাথায় রেখে আমি তাঁদের থেকে ফি নেব না বলে ঠিক করি। সেইমতো ফ্রি ক্লিনিক করছি। তমলুক, নন্দকুমার, ময়না, কোলাঘাট, পাঁশকুড়া সহ নানা জায়গা থেকে রোগীরা চেম্বারে ভিড় করছেন। নামডাক থাকায় অনেক রোগী তাঁর কাছে আসেন। তবে, তিনি ফ্রি-ক্লিনিক চালু করায় অনেকেই খুশি। এদিন তমলুকের রেবতি জানা, সুধাংশু দত্ত সহ আরও অনেকে চেম্বারে এসেছিলেন। তাঁরা বলেন, ডাক্তারবাবু ধৈর্য ধরে অসুস্থতার কথা মন দিয়ে শোনেন। তারপর ওষুধ লিখে দেন। অনেকদিন ধরে তাঁর কাছে চিকিৎসা করিয়েছি। অসুখ বিসুখ হলে আগে হরেকৃষ্ণবাবুর কথাই মনে পড়ে। মন্ত্রী হওয়ার পর ব্যস্ততা বেড়েছে। তারপরও তিনি যেভাবে আমাদের মতো রোগীদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা প্রশংসাযোগ্য।

Advertisement