নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চুঁচুড়া পুরসভার অস্থায়ী কর্মীদের কর্মবিরতির জেরে জেলার সদর শহরে বিপর্যস্ত পরিষেবা। ইতিমধ্যেই রাস্তার ধারে আবর্জনার স্তূপ বাড়তে শুরু করেছে। কুকুর, বিড়াল থেকে গবাদি প্রাণীর কারণে সেসব রাস্তায় ছড়িয়ে নরক গুলজার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সামনেই উল্টোরথ এবং মহরম। এমন সময়ে পরিষেবার এই সঙ্কটে নাগরিক মহল্লায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, শহরের ২৩, ২৪ ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিয়েছে। তার মধ্যে সাফাই কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্য প্রশাসনেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বুধবার সুডা’র কর্মীদের ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি সাফাইয়ের কাজ কিছুটা করা হয়েছে। যদিও সর্বত্র তা হয়নি। সেই সঙ্গে বাড়ির যাবতীয় আবর্জনা রাস্তাতেই জমা করে রাখার জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
এনিয়ে পুরসভার চেয়ারম্যান প্রবীণ তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অমিত রায় বলেন, সরকারি নিয়মে ষাট বছরে কর্মীদের অবসর দিতে হয়। আমরা মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আরও পাঁচবছর অস্থায়ী কর্মীদের কর্মকাল বাড়িয়েছি। অবসরকালীন সুবিধা হিসেবে ৫০ হাজার টাকা করে এককালীন অনুদান দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু কর্মীরা আন্দোলন চালিয়ে নাগরিকদের জন্য পরিষেবার সঙ্কট তৈরি করছেন। গোটা ঘটনার পিছনে একটি মহলের চক্রান্ত আছে। আমরা চাই প্রশাসন এনিয়ে অবিলম্বে পদক্ষেপ করুক। জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে কর্মীদের ঘেরাও আন্দোলন তুলতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন সদর মহকুমা শাসক। তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছিলেন। যদিও সেই বৈঠকের কোনও নির্দিষ্ট সময় বুধবার পর্যন্ত স্থির হয়নি। এদিকে, আন্দোলনকারী কর্মীরা জানিয়েছেন, ৬৫ বছরে অবসরের পরিকল্পনা বাতিল, প্রাত্যহিক মজুরি ১০০ টাকা বৃদ্ধি সহ একগুচ্ছ দাবি রাখা হয়েছে। সেসব না মানলে কাজে ফেরা হবে না।
সোমবার আন্দোলন শুরু করেন চুঁচুড়া পুরসভার অস্থায়ী কর্মীরা। মঙ্গলবার পুর প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবিচারের অভিযোগ তুলে তাঁরা কর্মবিরতি শুরু করেন। তার জেরে পুরসভার অফিস থেকে শহরের সর্বত্র সাফাই সহ যাবতীয় পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। বুধবার পুরসভা ভবনের সামনে আন্দোলনকারী কর্মীদের পিকেটিং চলার সময়ে ইচ্ছুক কর্মীদের একাংশের সঙ্গে তাঁদের হাতাহাতিও হয়। ওই ঘটনায় কিছুটা উত্তেজনা ছড়ায়। কিন্তু সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, সাফাই সহ বেশিরভাগ পরিষেবা বন্ধ থাকায়। চুঁচুড়া পুরসভায় বারবার এমন সঙ্কট নিয়ে তীব্র বিরক্তি দেখা দিয়েছে। নিজস্ব চিত্র