Bartaman Logo
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নয়াগ্ৰামে রেশম চাষিদের  দেওয়া হচ্ছে প্রযুক্তির পাঠ

নয়াগ্ৰম ব্লকজুড়ে উন্নত রেশম চাষ হচ্ছে।‌ ব্লকের ৪২০ হেক্টর জায়গাজুড়ে অর্জুন, রেশম গাছ লাগানো হয়েছে

নয়াগ্ৰামে রেশম চাষিদের  দেওয়া হচ্ছে প্রযুক্তির পাঠ
  • ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: নয়াগ্ৰম ব্লকজুড়ে উন্নত রেশম চাষ হচ্ছে।‌ ব্লকের ৪২০ হেক্টর জায়গাজুড়ে অর্জুন, রেশম গাছ লাগানো হয়েছে। কেশররেখা, মলম, বড়খাঁকরি ,পাতানি এলাকায় কেন্দ্রীয় রেশম পর্ষদের ‘মেরা রেশম, মেরা অভিমান’ অভিযান চলছে।চাষিদের আধুনিক প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে  এই  প্রকল্পে। ঝাড়গ্রামে অনুর্বর ও পতিত জমিতে অর্জুন ও আসন গাছ লাগানো হচ্ছে। নয়াগ্ৰাম ব্লকের গ্ৰামীণ এলাকায় স্থানীয় চাষিদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মশালা হচ্ছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তসর চাষ, রোগ ও কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ, শিকারি পোকা, বোলতার আক্রমণ কমানো, পোষক গাছের সঠিক পরিচর্যা নিয়ে চাষিদের একেবারে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। শুঁয়ো পোকার বেঁচে থাকার হার বাড়ানোর পাশাপাশি পোকামাকড়ের   কারণে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি কমানো ও কোকুন উৎপাদন বৃদ্ধিতে স্থানীয় পরিবেশকে কীভাবে ব্যবহার কর যায়, তাই বলা হচ্ছে। জেলা তসর দপ্তরের আধিকারিক তনয় নিয়োগী বলেন, নয়াগ্ৰাম ব্লকজুড়ে ৪০০ হেক্টর জমিতে রেশম চাষ  হচ্ছে। সামনের দিনে আরও চারশো হেক্টর জমিতে রেশম ফলানো হবে । রেশম চাষে গ্ৰামীণ মহিলাদের মধ্যে উৎসাহ বাড়ছে। কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা তসর বা রেশম চাষের পাশাপাশি তুঁত ভিত্তিক রেশম শিল্প নিয়েও চাষিদের সচেতন করছেন। ছোটো জমিতে বিভিন্ন ধরনের রেশম চাষ করলে বিকল্প আয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে। বাড়ির মহিলারাও তুঁত চাষের মাধ্যমে স্বনির্ভর হতে পারেন। এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য স্থানীয় চাষিদের  প্রচলিত অভিজ্ঞতার সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটিয়ে রেশম চাষকে লাভজনক, টেকসই করে তোলা। 

Advertisement

জলবায়ু পরিবর্তনে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় রেশম পোকার রোগ বেড়ে গিয়েছে। যা কমিয়েছে উৎপাদন। এছাড়া রেশম চাষ শ্রমসাধ্য পেশা। তুঁত গাছ লাগানো থেকে শুরু করে রেশম পোকার ডিম সংগ্রহ, রোগ প্রতিরোধে কোকুন উৎপাদনে দীর্ঘ সময় লাগে। দপ্তরের কর্তাদের বক্তব্য, প্রচলিত পদ্ধতির সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে রেশম চাষের প্রসার বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। 
কেশররেখা গ্ৰামের বাসিন্দা বর্ণা ভক্তার কথায়, ওই কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছিলাম। স্থানীয় পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে রেশম চাষ করা সম্ভব বলেই মনে করছি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ