নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শিয়ালদহ থেকে পার্ক সার্কাস ও উল্টোডাঙাগামী ট্রেনে পরপর ছিনতাইয়ের ঘটনার কিনারা করল রেল পুলিশ। ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচ দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছে শিয়ালদহ জিআরপি। উদ্ধার হয়েছে ছিনতাই হওয়া সবকটি সোনার চেন ও মোবাইল ফোন। ঘুটিয়ারি শরিফ গ্যাং এই কাজ চালাচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে।
অক্টোবর ও নভেম্বরের শুরুতে শিয়ালদহ জিআরপি এলাকায় চারটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। সোনার হার ও মোবাইল ছিনতাই করে পালায় দুষ্কৃতীরা। শিয়ালদহ স্টেশনে ট্রেন ঢোকা বা ছেড়ে যাওয়ার সময় ঘটনাগুলি ঘটে। ছিনতাইয়ের পর ট্রেনের গতি কম থাকার সুযোগ নিয়ে লাফ দিয়ে পালায় অভিযুক্তরা। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে প্রতিটি ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে রেল পুলিশ। জানা যায়, তারা পুরনো দুষ্কৃতী। বিভিন্ন রেল পুলিস এলাকায় তাদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও ধরাও পড়েছে। চলন্ত ট্রেনে তারা অপরাধ করে বেড়ায়। জিআরপির শিয়ালদহ থানার ইনসপেক্টর দীপক পাইক অপরাধের কিনারায় টিম তৈরি করেন। তদন্তে নেমে অফিসাররা জানতে পারেন, অভিযুক্তদের বাড়ি ঘুটিয়ারি শরিফ, জীবনতলা ও বারুইপুর এলাকায়। ঘুটিয়ারি শরিফ থেকে এই গ্যাং অপারেট করছে। ভোরে তারা শিয়ালদহ স্টেশন এলাকায় চলে এসে প্ল্যাটফর্মের শেষ মাথায় দাঁড়িয়ে থাকে। ট্রেন ঢোকা বা ছেড়ে যাওয়ার সময় তারা কামরায় ওঠে। তারপর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে গেটে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীর মোবাইল ফোন বা হার ছিনতাই করে পালায়। ভিড় ট্রেনকেই বেছে নেয় তারা। লাফ দিয়ে নেমে যাওয়ায় তাদের ধরতে পারছেন না যাত্রীরা। খোঁজ করতে গিয়ে দেখা যায়, ঘটনায় অভিযুক্ত মুন্না লস্কর, শামিমউদ্দিন মণ্ডল সহ বাকিরা প্ল্যাটফর্মেই ঘোরাঘুরি করত।
রেল পুলিশের টিম তল্লাশি চালিয়ে বুধবার রাতেই তাদের গ্রেফতার করেছে। তাদের ডেরায় তল্লাশি চালিয়ে সোনার হার ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা এভাবে কতগুলি অপরাধ করেছে, ধৃতদের জেরা করে তা জানার চেষ্টা চলছে।