


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: শ্রীরামপুর শহরের ভূগর্ভস্থ নিকাশি ব্যবস্থার আগাপাশতলা সংস্কারের কাজে নামছে পুরসভা। স্বাধীনতার পর প্রথমবার এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ডেনমার্কের বাণিজ্যিক কলোনির পর ব্রিটিশ কলোনির অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল শ্রীরামপুর। বিদেশি শাসকদের হাত ধরে তৈরি হয়েছিল ভূগর্ভস্থ নিকাশি। পুরকর্তাদের অনুমান, বিদেশিদের পর দেশীয় শাসনে হয়তো ১৯৪৭ সালে শেষবার নিকাশি সংস্কার হয়েছিল। কারণ সে সময়কালে তৈরি কিছু ম্যানহোলের ঢাকনা এখনও পাওয়া যায়। বহু বছর ধরে না হওয়া সেই কাজে এবার হাত দিচ্ছে পুরসভা। ইতিমধ্যেই ন’কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। পুরসভাকে কারিগরি সহায়তা দিতে রাজি কেএমডিএ। পুরকর্তাদের দাবি, জুন মাসের মাঝামাঝি এই কাজ শুরু হওয়ার কথা।
কেন প্রায় ৭৮ বছর পর এই কাজে হাত দেওয়া হচ্ছে? পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের ২৯টি ওয়ার্ডেই সামান্য বৃষ্টিতে জল জমে যাওয়া একটি বড় সমস্যা। কোথাও সেই সমস্যা ভয়াবহ। সেখানে পাম্পিং স্টেশন তৈরি করে জল সরানোর ব্যবস্থা চালু আছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময় দেখা গিয়েছে, পাম্প করেও জল বের করতে সময় লাগছে। তখনই বোঝা যায়, ভূগর্ভস্থ নিকাশিনালার মধ্যে পলির পরিমাণ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। একটি পর্যবেক্ষণ মোতাবেক, পলি জমার কারণে ভূগর্ভস্থ নিকাশি নালা প্রায় ৮০ শতাংশ ছোট হয়ে গিয়েছে। তার জেরে বৃষ্টি ছাড়াও শহরের স্বাভাবিক নিকাশি ব্যবস্থা গতি হারাতে শুরু করেছে। বৃষ্টির সময় জমা জলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। পুরসভার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল সদস্য সন্তোষ সিং (পাপ্পু) বলেন, আরও আগে আমাদের নিকাশি ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করা দরকার ছিল। কিন্তু টাকা ও কারিগরি সহায়তার অভাবে তা করা যায়নি। সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহায়তায় এবার আমরা পুরোদস্তুর সংস্কারের কাজে নামছি। টাকা বরাদ্দ হয়েছে, কেএমডিএ যান্ত্রিক ও পরিকল্পনায় সহযোগিতা দেবে। সব মিলিয়ে স্বাধীনতার পর শহরের বিদেশি নিকাশি ব্যবস্থাকে আমরা নতুন করে তুলতে পারব। চেয়ারম্যান গিরিধারী সাহা বলেন, প্রাচীন শহরে নানারকম জটিলতা থাকে। সেসব কাটাতে আমাদের কিছু সময় লেগেছে। শেষপর্যন্ত নাগরিকদের সুষ্ঠু পরিষেবা দিতে আমরা শহরের ভূগর্ভস্থ নিকাশি সংস্কারের কাজ করছি। যা বহু বছর ধরে নাগরিকদের সুবিধা দেবে। শহরের বাসিন্দা তথা সংস্কৃতিকর্মী সমীর সাহা বলেন, ভূগর্ভস্থ নিকাশি ব্যবস্থার আমূল সংস্কার একটি সময়োচিত পদক্ষেপ। একজন নাগরিক হিসেবে চাই, সমস্ত কাজ সুষ্ঠু ও বিজ্ঞানসম্মতভাবে পরিকল্পনা করে হোক। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সমস্ত প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে। জুনের মাঝামাঝি কাজে নামার প্রাথমিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।