


মুম্বই: গত বছর দেড়েক ধরেই শেয়ার বাজারের কার্যত কাহিল দশা। এবার পশ্চিম এশিয়ায় বারুদের গন্ধে নাভিশ্বাস উঠছে সূচকের। সৌদি আরব-কাতারে তেল-গ্যাস প্লান্টে ইরান হামলা চালাতেই গত তিনদিনের সাময়িক স্বস্তি মুছে ফের শুরু হয়েছে রক্তক্ষরণ। বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীবারেই হুড়মুড়িয়ে ধস নামল শেয়ার সূচকে। একদিনেই উবে গেল বিনিয়োগকারীদের ১২ লক্ষ টাকার সম্পদ। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলার জেরে হু হু করে চড়ছে অশোধিত তেলের দর। এর সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা, বিশ্ব বাজারে টালমাটাল দশা লগ্নিকারীদের হাত টেনে ধরেছে। তেলের ছ্যাঁকায় সংকট ঘনিয়েছে অর্থনীতিতে। শুধু শেয়ার বাজারে ধস নামেনি, পাল্লা দিয়ে রেকর্ড তলানিতে টাকার দর। এদিন দুপুরে ডলারের বিনিময় মূল্য ৯৩ টাকা ৩৭ পয়সা ছাড়িয়ে যায়। পরে অবশ্য তা ৯৩ টাকা ১৭ পয়সায় নেমে আসে। এপর্যন্ত যা সর্বনিম্ন। টাকার স্বাস্থ্যের বেহাল দশায় উদ্বেগ আরও ঘনীভূত হয়েছে। সবমিলিয়ে চরম মূল্যবৃদ্ধি ও বাণিজ্য ঘাটতির অশনি সংকেত মিলতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি নিয়ে কংগ্রেসের কটাক্ষ, ২০১৪ সালে ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার দাম ছিল ৫৮ টাকা। মোদির আমলে গত ১২ বছরে তা ৯৩ টাকায় নেমে গিয়েছে। এর মাশুল গুণতে হচ্ছে দেশের মানুষকে।
দালাল স্ট্রিটে এদিনের কাঁপুনির নেপথ্যে আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি ঘরোয়া অর্থনীতির দুর্বলতার দিকেও ইঙ্গিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সকাল থেকেই মুষড়ে ছিল সূচক। সেনসেক্স একধাক্কায় ২,৪৯৬.৮৯ পয়েন্ট বা ৩.২৬ শতাংশ নেমেছে। ২০২৪ সালের জুনের পর থেকে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে (বিএসই) এটাই একদিনে সবচেয়ে বড় ধস। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জেও ছিল বিবর্ণ দশা। সেখানে সূচক নিফটি ৩.২৩ শতাংশ বা ৭৭৫.৬৫ পয়েন্ট হোঁচট খেয়েছে। বিএসই ৩০-সেনসেক্সে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেয়েছে ইটারন্যাল, বাজাজ ফিনান্স, মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা, এইচডিএফসি ব্যাংক, লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো, বাজাজ ফিনসার্ভের মতো কোম্পানির শেয়ার। বিএসই-তে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজারমূল্য ৪২৭ লক্ষ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এরই মধ্যে বুধবার ‘নৈতিকতা ও মূল্যবোধে’র কারণ দেখিয়ে ইস্তফা দিয়েছেন দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংক এইচডিএফসি-র চেয়ারম্যান অতনু চক্রবর্তী। এই খবর সামনে আসার পরই এদিন ব্যাংকটির শেয়ার দরে ৫.১৩ শতাংশ পতন হয়। যদিও রিজার্ভ ব্যাংক জানিয়েছে, উদ্বেগের কিছু নেই।
বুধবারই ইরানের প্রধান প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রে আঘাত হেনেছে ইজরায়েল। পালটা এদিন কাতারের গুরুত্বপূর্ণ এলএনজি ঘাঁটি, কুয়েতের দুটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে তেহরান। লোহিত সাগরে সৌদি শোধনাগারও রেহাই পায়নি। ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে ব্যাপক ব্যাঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তার জেরে এদিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬.৭৫ শতাংশ লাফ দিয়ে পৌঁছেছে ব্যারেল প্রতি ১১৪.৮ ডলারে। ফলে তেল সংকটের আশঙ্কা দিনদিন তীব্র হচ্ছে।