নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চন্দননগরের বৈদ্যপোঁতার এক সাবেক বনেদি বাড়ি থেকে এক বৃদ্ধার মৃতদেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পাশাপাশি ওই বাড়ি থেকেই তাঁর বৃদ্ধ স্বামীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে চন্দননগর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ওই দম্পতির মেয়ে শর্মিষ্ঠা দাস শুক্রবার দাবি করেছেন যে, আমরা তিনজনই ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলাম। তাঁর এই দাবি রহস্যের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে তাঁর আচরণ অসংলগ্ন ছিল।
চন্দননগরে দাস পরিবারের ঘটনায় গুঞ্জন শুরু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চন্দননগরে এক সময়ে প্রতিপত্তিশালী ব্যবসায়ী ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ দাস। এই পরিবার তাঁরই উত্তরসূরি। পুলিস জানিয়েছে, মৃতার নাম সুনীতা দাস (৮৪)। প্রায় নব্বই বছরের বৃদ্ধ তথা সুনীতাদেবীর স্বামী একেন্দ্রনাথ দাস এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের মেয়ে বছর পঁয়তাল্লিশের শর্মিষ্ঠা বিবাহবিচ্ছিন্না। তিনি বর্তমানে এক আত্মীয়ের তত্ত্বাবধানে আছেন।
শর্মিষ্ঠাদেবীর দাবি, মা-বাবা এবং আমি তিনজনেই ৩০টি করে ওষুধ খেয়েছিলাম। অত পরিমাণ ওষুধের প্রভাব যদিও তাঁর শরীরে দেখা যায়নি। পুলিসের একটি সূত্রের দাবি, শুক্রবার দুপুরে মৃতদেহ উদ্ধার হলেও বৃদ্ধা সম্ভবত একদিন আগেই মারা গিয়েছেন। ফলে, ওষুধ কবে খাওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে।
পুলিসের দাবি, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। মানসিক অসুস্থতা না আর্থিক অনটন— কী কারণে এই ঘটনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। শর্মিষ্ঠাদেবী বলেন, বাড়িতে সমস্যা আছে কি না, আমি জানি না। বাবা বলতে পারবেন। মা মারা গিয়েছেন। বাড়িতে কাজ করার কেউ নেই। তাঁর এক আত্মীয় আরণ্যক দাস এদিন খবর পেয়ে কলকাতা থেকে এসেছিলেন। তিনি বলেন, যিনি মারা গিয়েছেন তিনি আমার পিসি। ২০১৫ সালের পর আমি পিসির বাড়িতে আসিনি। কী সমস্যা ছিল, তাও জানি না। প্রতিবেশী প্রকাশচন্দ্র দাস বলেন, মা ও মেয়ে বাড়ি থেকে বের হতেন না। একেন্দ্রবাবু অবশ্য বাজার-হাট করতে এই বয়সেও বেরতেন। গত দু’দিন তাঁকে দেখতে পাইনি। অতীতে এই পরিবারের বিরাট ব্যবসায়িক প্রতিপত্তি ছিল। বর্তমানে অবস্থা কেমন, তা জানি না। তাঁরা এলাকায় তেমন মিশতেন না। এদিন সকালে শর্মিষ্ঠা এসে আমাকে বলল, মায়ের মৃতদেহ বের করতে হবে। আমি বললাম, পাড়ার ছেলেদের ডাক। এর বেশি কিছু জানি না।
জানা গিয়েছে, বৈদ্যপোঁতা মোড়ে এক বড়সড় বনেদি বাড়িতে থাকতেন তিনজন। শর্মিষ্ঠাদেবীর বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু বহু বছর ধরে তিনি মা-বাবার কাছেই থাকেন। একেন্দ্রবাবুর কোলিয়ারির ব্যবসা ছিল ধানবাদে। পরে তিনি চন্দননগরে একটি প্রেস খুলেছিলেন। বর্তমানে সেসব আর নেই। এদিন শর্মিষ্ঠাদেবী প্রতিবেশীদের বাড়িতে গিয়ে মায়ের মৃত্যুর খবর জানাতেই হইচই শুরু হয়। পুলিস আসে। তার আগেই স্থানীয়রা বাড়িতে ঢুকে একেন্দ্রবাবুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করেন। তাঁর তীব্র শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। শর্মিষ্ঠাদেবীকেও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁকে ভর্তি না করে ছুটি দিয়ে দেন ডাক্তাররা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ মে চন্দননগরের কলুপুকুরে দেনায় জর্জরিত হয়ে এক ব্যবসায়ী তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে খুন করে আত্মহত্যা করেছিলেন। তারপর বনেদি দাসবাড়ির কাণ্ডকে ঘিরে চন্দননগর ফের সরগরম হয়ে উঠেছে।