Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সিনিয়র চিকিৎসকরা হাসপাতালে আরও সময় দিন, আর্জি সাংসদের

সিনিয়র চিকিৎসকরা হাসপাতালে আরও সময় দিন, আর্জি সাংসদের
  • ৯ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের উপর হামলার নিন্দা করলেন বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, হাসপাতালের অধিকাংশ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী ভালো। চিকিৎসকরা রোগীকে বাঁচানোর জন্য শেষমুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেন। তারপরেও রোগীর আত্মীয়রা চিকিৎসকদের উপর চড়াও হয়। ওই ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। এব্যাপারে সকলকেই ধৈর্য ধরে সমস্যার সমাধান করতে হবে। মঙ্গলবার বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একটি ক্যান্টিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে সাংসদ একথা বলেন। পাশাপাশি সিনিয়র চিকিৎসকদের আরও বেশি সময় দেওয়ার আবেদন জানান।

Advertisement

বাঁকুড়ার সাংসদ একই সঙ্গে হাসপাতালে দালালরাজের দিকেও আঙুল তোলেন। তিনি বলেন,  মানুষকে স্বস্তি দিতে মুখ্যমন্ত্রী বিনা পয়সায় চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু স্ট্রেচারে রোগী নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিজনদের কাছ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাই। রোগী আত্মীয়দের কাছ থেকে নানা অজুহাতে টাকা নেওয়া হচ্ছে। এটা মানা যায় না। এটা গুরুতর অপরাধ। তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি জুনিয়র ডাক্তারদের ‘মানবিক’ আচরণ করতে বলার পাশাপাশি সিনিয়র চিকিৎসদের সপ্তাহে অন্তত চারদিন ডিউটি করারও আবেদন জানান। অরূপবাবু জুনিয়র ডাক্তারদের উদ্দেশ্যে বলেন, আন্দোলন করার অধিকার সকলের আছে। তবে রোগীর পরিজনদের সঙ্গে একটু ভালো ব্যবহার করতে হবে। ডাক্তাররা হেসে কথা বললে রোগীর অর্ধেক রোগ ভালো হয়ে যায়। অনেক সিনিয়র চিকিৎসক সপ্তাহে দু’দিন ডিউটি করেন। বাকি দিনগুলি তাঁরা কলকাতায় থাকেন। সপ্তাহে অন্তত চারদিন ডিউটি করলে মানুষের ভালো হয়। এই বিষয়টিও কর্তৃপক্ষকে দেখতে হবে। বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি অর্পণকুমার গোস্বামী বলেন, সাংসদের অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা হাসপাতালে দালালদের প্রশ্রয় দিই না। কেউ ওই ধরনের কাজ করলে কড়া পদক্ষেপ নেব। চিকিৎসকরা রোগী ও পরিজনদের পাশে থাকেন। 
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এতদিন বাঁকুড়া মেডিক্যালে কোনও ক্যান্টিন ছিল না। ফলে চিকিৎসক, পড়ুয়া, রোগীর পরিজনদের সমস্যা হচ্ছিল। রাত ১০টার পর হাসপাতালের সামনে দু-একটি চায়ের দোকান ছাড়া আর কিছুই খোলা থাকে না। হাসপাতালের রোগীর পরিজনদের বিশ্রাম নেওয়ার জন্য তৈরি ভবনের নীচতলায় ওই ক্যান্টিন চালু করা হয়েছে। ২৪ ঘন্টা ওই ক্যান্টিন খোলা থাকবে। এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংসদ, এমএসভিপি-র পাশাপাশি বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অলকা সেনমজুমদার, মেডিক্যালের অধ্যক্ষ পঞ্চানন কুণ্ডু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 
হাসপাতালের এক ইর্ন্টান বলেন, ক্যান্টিনে খাওয়া দাওয়ার পাশাপাশি রোগ, অপারেশন সংক্রান্ত ‘জটিল কেস’ নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনাও হয়ে থাকে। এতদিন বাঁকুড়া মেডিক্যালে ক্যান্টিন না থাকায় আমাদের সমস্যা হচ্ছিল। এবার কফির কাপে চুমুক দিয়ে চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করা যাবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ