শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: হোল্ডিং সেন্টারে পাঠিয়ে দিন! গত কয়েক দিনে ঠিক এমনই আবেদন জানিয়ে গুচ্ছ গুচ্ছ মামলা দায়ের হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। কিন্তু হঠাৎ কেন সাধ করে হোল্ডিং সেন্টারে যেতে চাওয়ার আবেদন? আসলে এ যেন ‘কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ’!
শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: হোল্ডিং সেন্টারে পাঠিয়ে দিন! গত কয়েক দিনে ঠিক এমনই আবেদন জানিয়ে গুচ্ছ গুচ্ছ মামলা দায়ের হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। কিন্তু হঠাৎ কেন সাধ করে হোল্ডিং সেন্টারে যেতে চাওয়ার আবেদন? আসলে এ যেন ‘কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ’!
ক্ষমতায় আসার পরই অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাদের সরাসরি বাংলাদেশে চালান করার জন্য অসমের ধাঁচে এ রাজ্যেও হোল্ডিং সেন্টার তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি। হয়েছেও তাই। রাজ্যে বর্তমানে অন্তত ১৩টি হোল্ডিং সেন্টার চালু রয়েছে। ৪০০ জনের বেশি সন্দিগ্ধ অনুপ্রবেশকারীর ঠাঁই হয়েছে সেখানে। এই হোল্ডিং সেন্টারগুলি তৈরির পরই সেখানে যেতে চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন সাজার মেয়াদ উত্তীর্ণ জেলবন্দি বাংলাদেশি নাগরিকরা। কারণ, এদের অনেকেই ইতিপূর্বে বারবার আবেদন করেও বিভিন্ন আইনি জটিলতায় বাংলাদেশে ফিরতে পারেনি। তারা আশা করছে, হোল্ডিং সেন্টারের মাধ্যমে সহজেই তাদের বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করে দেওয়া হবে।
২০১৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি হাওড়া স্টেশন থেকে বাংলাদেশি সন্দেহে গ্রেপ্তার হয়েছিল ফরিদুল আলম। বহু জেরার পর সে স্বীকার করে যে সে বাংলাদেশের বাসিন্দা। ২০১৭ সালের মে মাসে ফরেনার্স অ্যাক্টের ১৪ নম্বর ধারায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ১ বছর ৩ মাসের সাজা শোনায় নিম্ন আদালত। ২০১৮ সালের ৩ জুলাই তার সাজার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখনও সে দমদম সেন্ট্রাল জেলে বন্দি। ওই বছর অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ লাগোয়া উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর থেকে বাংলাদেশি সন্দেহে আবদুল্লা ও বসির আহমেদ নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পরে তারা দোষী প্রমাণিত হয়। মাত্র তিন মাসের সাজা শোনায় আদালত। ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে সাজার মেয়াদ শেষ হলেও সাড়ে ন’বছর ধরে দু’জনের ঠিকানা দমদম জেল। শুধু ফরিদুল আবদুল্লা বা বসিরই নয়। অনুপ্রবেশকারী হিসাবে সাজার মেয়াদ কাটিয়ে অন্তত পাঁচ বছর ধরে দমদম জেলে বন্দি বাংলাদেশের খুলনার বাসিন্দা মহম্মদ ইদ্রিশসহ আরও বহু অনুপ্রবেশকারী।
রাজ্যে হোল্ডিং সেন্টার তৈরি হতেই ‘ভাগ্য’ খুলে গিয়েছে তাদের! হোল্ডিং সেন্টারে যেতে চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছেন সকলেই। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সবার আবেদন মঞ্জুর করেছেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। আবেদনকারীদের দ্রুত হোল্ডিং সেন্টারে পাঠাতে দমদম জেলের সুপারকে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।