সংবাদদাতা, বারুইপুর: সেলিম হোসেন মুসলমান। বারুইপুরে তাঁকে মানুষ শান বলে ডাকে। শানের উদ্যোগেই রিয়েল ষ্টার ক্লাবে ৯ বছর ধরে হচ্ছে দুর্গাপুজো। হিন্দু- মুসলমান কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পুজোর আয়োজন করেন। সম্প্রীতির নিদর্শন রিয়েল স্টারের পুজো। বারুইপুরের তা দেখতে ভিড় করেন দূর-দূরান্তের মানুষ।
সেলিম হোসেনের বাড়ি বারুইপুরের মদারাট পঞ্চায়েতে। রাসমাঠের কাছে রিয়েল ষ্টার ক্লাবের পুজোয় কাঁধে করে প্রতিমা আনা থেকে শুরু করে মণ্ডপ নির্মাণ সবই দায়িত্ব নিয়ে নিজে করেন। মণ্ডপের কাজ ঠিক মত হচ্ছে কি না তাও খতিয়ে দেখেন। সেলিম বলেন, ‘ছোট থেকেই দুর্গাপুজো নিয়ে আলাদা আনন্দ ছিল। পাড়ায় খুশিতে মেতে উঠতাম। এই ক্লাবের সঙ্গে প্রথম থেকেই আছি। নিজের হাতে পুজোর আয়োজন করি। তবে আমি একা নয়, আমরা সবাই মিলে পুজোর দায়িত্ব পালন করি।’ ফি বছর চমক থাকে সেলিমদের পুজোয়। নবম বছরেও ব্যতিক্রম নয়। রাজস্থানের একটি মন্দিরের আদলে নির্মিত হচ্ছে মণ্ডপ। সামঞ্জস্য রেখে তৈরি হচ্ছে প্রতিমা। সদলবলে গিয়ে বারুইপুর দত্তপাড়া থেকে প্রতিমা আনেন সেলিম। তিনি পুজোর আয়োজক হিসেবেই শুধু থাকেন না, নিজের পরিবার নিয়ে অষ্টমীতে অঞ্জলিও দেন। বলেন, ‘অষ্টমীর দিন মায়ের কাছে অঞ্জলি দিয়ে তবেই খাওয়াদাওয়া করি। লুচি-আলুরদম বেশ আলাদারকম খাওয়া। ওই দিন নিরামিষ খাই। ক্লাবের সবাই হইচই করে কয়েকদিন কেটে যায়। আমার পরিবারও পুজোয় সামিল হয়। বিসর্জনের দিন মন খারাপ হয়ে যায়। ঘটা করে শোভাযাত্রা সহকারে মাকে নিয়ে যাওয়া হয় বারুইপুরের সদাব্রত ঘাটে।’ ক্লাবের সদস্য অরিন্দম, অনুপম বলেন, ‘সেলিমদাই পুজো পরিচালনার মুখ্য দায়িত্বে থাকেন। আমাদের কাজে উৎসাহ দেন। হিন্দু-মুসলিম সবাই একসঙ্গে পুজোকে এগিয়ে নিয়ে চলেছি।’