Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আরামবাগে গেরুয়া বাহিনীর প্রচারে এসআইআর কাঁটা, নাম বাদ দিয়ে ভোট চাইছেন? প্রশ্নে বিব্রত বিজেপি প্রার্থী

বাড়ির সদস্যরা বিগত নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু, এসআইআর-এর তালিকায় ‘বিচারাধীন’ হয়ে রয়েছেন। সংখ্যালঘু এলাকায় বেছে বেছে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

আরামবাগে গেরুয়া বাহিনীর প্রচারে এসআইআর কাঁটা, নাম বাদ দিয়ে ভোট চাইছেন? প্রশ্নে বিব্রত বিজেপি প্রার্থী
  • ২৬ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রামকুমার আচার্য, আরামবাগ: বাড়ির সদস্যরা বিগত নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু, এসআইআর-এর তালিকায় ‘বিচারাধীন’ হয়ে রয়েছেন। সংখ্যালঘু এলাকায় বেছে বেছে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। কীভাবে তাঁরা ভোট দেবেন? প্রচারে গেলে বিজেপি প্রার্থীর উদ্দেশে এমনই প্রশ্ন ভোটারের। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশও করেছেন অনেকে। যদিও পুলিশ আটকে দেওয়ায় সরাসরি প্রার্থীর সঙ্গে এই প্রসঙ্গে কোনো কথা হয়নি ভোটারদের। তবে বুধবার আরামবাগের পূর্ব কেশবপুরের ওই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। 

Advertisement

ওই গ্রামের ভোটার শেখ হাসিবুল পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। এখন বাড়িতে রয়েছেন। তাঁর দাবি, পরিবারের তিন সদস্য এসআইআরের তালিকায় এখনো বিচারাধীন হয়ে রয়েছেন। তাতে এবারের বিধানসভা ভোট দেওয়া নিয়ে তাঁরা আশঙ্কায় রয়েছেন। তথ্যগত অসংগতির জন্য তাঁদের হিয়ারিংয়ের নোটিস আসে। সেইমতো প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে হাজির হন শুনানিতে। কিন্তু, তারপরেও তাঁরা বিচারাধীন থাকায় আতঙ্কে পড়েছেন। 
হাসিবুল বলেন, আমার নিজের নামেও নোটিস আসে। শুনানিতে গিয়ে নথি জমা দিতে তালিকায় নাম ওঠে। কিন্তু, বয়স্কা মা, বউদি ও এক ভাইয়ের স্ত্রী-র নাম এখনো বিচারাধীন রয়েছে। এদিন বিজেপি প্রার্থী আমাদের গ্রামে প্রচারে এসেছিলেন। তিনি ভোট চাইতে আসতেই পারেন। কিন্তু, আমাদের পরিবারের সদস্যরা ভোটার তালিকায় বিচারাধীন থাকায় ভোট কীভাবে দেবে? তা নিয়েই প্রশ্ন করতে চেয়েছিলাম প্রার্থীকে। প্রার্থীর কাছে যাওয়ার আগেই পুলিশ আটকে দেয়। 
তিনি আরও জানিয়েছেন, আমাদের গ্রামের একাধিক বুথে সংখ্যালঘু ভোটারদের বিচারাধীন করা হয়েছে। তাই গ্রামের অন্যান্য ভোটাররাও একই প্রশ্ন করতে চেয়েছেন। 
আরামবাগের বিজেপি প্রার্থী হেমন্ত বাগ বলেন, প্রচার সঙ্গীদের প্রশ্ন করেছেন ওই ভোটার। আমার সঙ্গে সরাসরি এব্যাপারে কোনো কথা হয়নি। এসআইআর-এর কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। এখানে বিজেপির কোনো সম্পর্ক নেই। তবে বৈধ ভোটাররা যাতে ভোট দিতে পারেন, তার আর্জি আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে জানিয়েছি। 
এদিন আরামবাগের বিজেপি প্রার্থী পূর্ব কেশবপুর এলাকায় প্রচারে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরামবাগ শহরের বিজেপির সাধারণ সম্পাদক উপাসক দে। তিনি বলেন, ওই গ্রামে প্রচার করে বেরিয়ে আসার সময় আমাদের দু’জন কর্মীকে ভোটাররা এসআইআর নিয়ে প্রশ্ন করছিলেন। সেখানেই মিটে গিয়েছে বিষয়টি। তবে এদিন আমরা ওই এলাকায় প্রচারে গিয়ে ভালো সাড়া পেয়েছি। 
তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক স্বপন নন্দী বলেন, বিজেপির চক্রান্তে নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর নামে মানুষকে হয়রানি করছে। এখনো সাপ্লিমেন্টারি তালিকা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। টাঙানো হয়নি তালিকা। এনিয়ে ভোটাররা বিজেপিকে প্রশ্ন করছেন। কিন্তু, বিজেপি প্রশ্ন এড়িয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, এসআইআরের সাপ্লিমেন্টারি তালিকা নিয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক বলছেন, অনলাইনে তালিকা খোলা যায়নি এখনো। তাতেই ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়ছে। 
 আরামবাগে মাঠে প্রচারে বিজেপি প্রার্থী হেমন্ত বাগ। নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ