Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নিরাপত্তা আরও আঁটসাঁট, লালবাজারের তথ্যভাণ্ডার নিয়ন্ত্রণে স্টেট ডেটা সেন্টার

দেশে কার্যত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি চলছে। উত্তপ্ত আবহাওয়ায় দেদার ছড়াচ্ছে ভুয়ো তথ্য। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ওত পেতে বসে রয়েছে সাইবার প্রতারকরা

নিরাপত্তা আরও আঁটসাঁট, লালবাজারের তথ্যভাণ্ডার নিয়ন্ত্রণে স্টেট ডেটা সেন্টার
  • ১৩ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশে কার্যত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি চলছে। উত্তপ্ত আবহাওয়ায় দেদার ছড়াচ্ছে ভুয়ো তথ্য। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ওত পেতে বসে রয়েছে সাইবার প্রতারকরা। কেন্দ্রীয় সরকার থেকে শুরু করে সেনাবাহিনী—দেশবাসীর কাছে তাদের একটাই আবেদন, ‘ভুয়ো তথ্য সংগ্রহ ও ছড়ানো থেকে বিরত থাকুন।’ এই আবহে নিজেদের তথ্যভাণ্ডার সুরক্ষিত করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে কলকাতা পুলিসের সদর দপ্তর লালবাজারে। অপরাধীদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট থেকে শুরু করে রেটিনার তথ্য, পরিচয়, ঠিকানা, ঠিকুজি—সব জরুরি তথ্যের ‘হেফাজত’ বদলাচ্ছে। বাড়তি সুরক্ষার স্বার্থে এবার লালবাজারের ‘জাব্দা-খাতা’ নিয়ন্ত্রণ করবে স্টেট ডেটা সেন্টার। অর্থাৎ আগামী দিনে কলকাতা পুলিসের তথ্যভাণ্ডার যাচ্ছে রাজ্যের তথ্য ও প্রযুক্তি দপ্তরের হাতে। সূত্রের খবর, তথ্যভাণ্ডারের নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের কাজ ইতিমধ্যে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে। শুরুর দিন থেকেই কলকাতা পুলিসের যাবতীয় তথ্য স্বনিয়ন্ত্রিত। প্রযুক্তিগত উন্নয়নের হাত ধরে লালবাজারের নিজস্ব সার্ভারে অপরাধীদের পুরাতন রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে। দ্বিস্তরীয় বলয়ে তা সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত। প্রথমভাগে রয়েছে ‘ইন্টারনেট থ্রেট’-এর সুরক্ষাকবচ ‘ফায়ারওয়াল’। এর ভিতরের বলয়ে রয়েছে লালবাজারের নিজস্ব নিরাপত্তা বেষ্টনী। বর্তমান প্রযুক্তির সঙ্গে সেই বেষ্টনী খাপ খাওয়াতে সক্ষম। কিন্তু সূত্রের খবর, নিকট অতীতে কয়েকবার সেই বেষ্টনী ভাঙার চেষ্টা চালিয়েছে সাইবার জালিয়তরা। যদিও তা নিয়ে সরকারিভাবে কিছু জানায়নি লালবাজার। এমনকী, এমন কোনও চেষ্টা হয়নি বলেও দাবি করেছেন কলকাতা পুলিসের এক উচ্চপদস্থ কর্তা। উল্লেখ্য, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কিছু পোর্টাল হ্যাক করার চেষ্টা চালানো হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা বানচাল করে দিয়েছে ভারত। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, এই অবস্থায় যাবতীয় সাইবার হানা এড়াতেই নিজেদের তথ্যভাণ্ডারের নিয়ন্ত্রণ স্টেট ডেটা সেন্টারের হাতে তুলে দিচ্ছে লালবাজার। 

Advertisement

স্টেট ডেটা সেন্টারকেই কেন বেছে নেওয়া হল? সরকারি সূত্রের দাবি, প্রযুক্তিগতভাবে রাজ্য তথ্যভাণ্ডার অনেক বেশি সুরক্ষিত। তাতে ত্রিস্তরীয় রক্ষাকবচ রয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থেই সেই সুরক্ষাকবচের কোনও বৈশিষ্ট্য প্রকাশ্যে আনছে না রাজ্যের তথ্য ও প্রযুক্তি দপ্তর। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, রাজ্য তথ্যভাণ্ডারে সাইবার হানার আশঙ্কা নেই বললেই চলে। তাছাড়া, সুরক্ষার পাশাপাশি তথ্যভাণ্ডারের ধারণক্ষমতার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হচ্ছে। লালবাজারের পথচলা শুরুর সময় থেকে অভিযুক্ত ও অপরাধী সংক্রান্ত বিপুল তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। কয়েকশো টেরাবাইট (টিবি) তথ্য সঞ্চিত রয়েছে লালবাজারের ‘জাব্দা-খাতা’য়। বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বাবদ ১০ লক্ষ টাকা ব্যয় করতে হয় সরকারকে। এই দায়িত্ব রয়েছে একটি থার্ড পার্টি এজেন্সির উপর। সেক্ষেত্রেও তথ্যের নিরাপত্তার সঙ্গে আপস হতে পারে বলে শঙ্কা কলকাতা পুলিসের। তথ্য সঞ্চয়ের ‘ভাণ্ডার’ প্রায় উপচে পড়ায় নতুন ‘স্পেস’ কিনতে প্রায় ২ কোটি টাকা বাড়তি খরচ চাপতে পারত। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, বাড়তি খরচের এই বোঝা কমাতেই লালবাজারের সব তথ্য এবার রাজ্য তথ্যভাণ্ডারের অধীনে যাচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ