নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নেতাজিনগরে ‘ভিস্যুয়ালি চ্যালেঞ্জড’ এক নাবালিকাকে দিনের পর দিন ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় অভিযুক্ত সেখানকারই এক নিরাপত্তারক্ষী। খাবার দেওয়ার নাম করে তাঁকে এক বছর ধরে লাগাতার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নাবালিকা অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। হোমের অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানকার নিরাপত্তারক্ষী সুনকর মালিককে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে লালবাজার।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালে ওই নাবালিকা এখানে আসে। এই হোমে ছেলেমেয়েদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। মেয়েদের থাকার জায়গা সম্পূর্ণ আলাদা। ওই নাবালিকা পুরোপুরি দৃষ্টিশক্তিহীন। ব্রেইল মাধ্যমে পড়াশুনা করে। ২০২৫ সালের মে মাস থেকে সেখানে খাবার দিতে আসত ওই নিরাপত্তারক্ষী। খাবার দেবার অছিলায় ঢুকে নাবালিকাকে যৌন হেনস্তা করে বলে অভিযোগ। নাবালিকার দৃষ্টির সমস্যা থাকলেও নিরাপত্তারক্ষী গলার আওয়াজ থেকে তাকে চিহ্নিত করে রেখেছিল। রোজ রাতেই তাঁর উপর নির্যাতন চালাত অভিযুক্ত। এর ফলে নাবালিকা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। হোম কর্তৃপক্ষ তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানতে পারে, সেখানকার নিরাপত্তারক্ষী যৌন নির্যাতন করছে দীর্ঘদিন ধরেই। এতে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়েন ওই হোমের কর্ণধাররা। মহিলাদের থাকার জায়গায় কীভাবে নিরাপত্তারক্ষী খাবার দেবার নাম করে ঢুকত, তার খোঁজ শুরু হয়। এর সঙ্গেই নেতাজি নগর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। পরে তদন্তভার নেয় লালবাজার। ওই নাবালিকার শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়। সেখানে নির্যাতনের প্রমাণ মেলে। এরপরই অভিযুক্ত ওই নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেপ্তার করে লালবাজার।
সরকারি আইনজীবী শুভাশিস ভট্টাচার্য বলেন, অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে ওই নাবালিকাকে নির্যাতন করেছে। নাবালিকার মেডিকো লিগ্যাল করা হয়েছে। অভিযুক্তকে জেরা করে জানতে পারা যাবে, কীভাবে সে মেয়েদের থাকার জায়গা ঢুকত। তাকে পুলিশি হেপাজতে পাঠিয়েছে আদালত।