নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন সিন্দুরে’র সাফল্য প্রচারে সরকারের আয়োজনে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদলের বিদেশ ভ্রমণে অংশ নিলেও নরেন্দ্র মোদির সমালোচনার রাস্তা থেকে সরবে না কংগ্রেস। সন্ত্রাসবাদের আঁতুরঘর পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দিতে বিশ্বজুড়ে প্রচারে আপত্তি নেই রাহুল গান্ধীর দলের। তবে নিরাপত্তা ব্যর্থতার জেরে পহেলগাঁও কাণ্ড ঘটে যাওয়ায় সরকারকে দায় নিতে হবে বলেই দাবি করল দল। ব্যর্থতার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দায়ী করল কংগ্রেস।
আর এই ব্যর্থতার কথা আড়াল করতেই মোদি সরকার নানাভাবে দৃষ্টি ঘোরাতে চাইছে বলে বুধবার সরব হলেন এআইসিসির প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশ। কখনও জাতি জনগণনা, কখনও বিদেশে প্রতিনিধিদল পাঠানো। কিন্তু দেশে সর্বদলীয় বৈঠক কেন ডাকছেন না মোদি? কেন নয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন? প্রশ্ন তোলেন তিনি। জানিয়ে দেন, মোদি সরকার যতই দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা করুক না কেন, কংগ্রেস পহেলগাঁওয়ের ঘটনায় সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরবেই।
এবং অপারেশন সিন্দুরে মোদি বা বিজেপিকে কোনও কৃতিত্ব নিতে দেবে না। কংগ্রেসের মন্তব্য, অপারেশন সিন্দুর সেনাবাহিনীর জয়। মোদি সরকারের রাজনৈতিক ব্যর্থতা। ঠিক হয়েছে, আগামী ২৫-৩১ মে রাজ্যে রাজ্যে বের করা হবে ‘জয় হিন্দ’ যাত্রা। কলকাতায় হবে আগামী ২৭ মে। অশোক গেহলট থেকে রণদীপ সুরজেওয়ালা, দীপেন্দর হুডা, ভূপেশ বাঘেলের মতো নেতারা যার নেতৃত্ব দেবেন। কলকাতায় যাবেন ওড়িশার সাংসদ সপ্তগিরি উল্কা।
বিজেপির সাংসদ তথা মোদির দলের মুখপাত্র সম্বিত পাত্র রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করেছেন। বলেছেন, রাহুল গান্ধী আদতে পাকিস্তানকে অক্সিজেন জোগাচ্ছেন। সেই মন্তব্যকেই পাল্টা দিতে জয়রামের প্রত্যাঘাত, পহেলগাঁওয়ে যে জঙ্গিরা এসে আমাদের মেরে গেল, তারা ধরা পড়ল না কেন? তারা কোথায়? চীনের মদতেই পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে বলেই জয়রামের দাবি। তাই বিজেপি তথা মোদি সরকারকে তাঁর প্রশ্ন, চীনকে ক্লিনচিট কে দিয়েছে? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জিন্নাহর প্রশংসা কে করেছিলেন? যশবন্ত সিং। লাহোর বাসযাত্রা করেছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ি। আর কে গিয়েছিল নওয়াজ শরিফের সঙ্গে প্রাতরাশ খেতে? নরেন্দ্র মোদি। ফলে কংগ্রেস বা রাহুল গান্ধী নয়। পাকিস্তানকে অক্সিজেন দেয় বিজেপিই।